পূর্বাভাস ছাড়া ঝড়ে সারা দেশে নিহত ৮

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

কোন  রকম পূর্বাভাস ছাড়াই দেশের বিভিন্ন যায়গায় গতকাল বয়ে গেছে বছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড় আর তীব্র শীলা বৃষ্টি।দেশের প্রায়  চৌদ্দটি জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎপৃষ্ঠ,পাথরের আঘাত ও বজ্রপাতে  সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত হয়েছে আট জন। 

এর মধ্যে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে শিলার আঘাতে সৈয়দ আলী (৫৫) ও মাগুরা সদর উপজেলায় আকরাম হোসেন (৩৫) নামে দুই কৃষক, পাবনার ঈশ্বরদীতে জমেলা খাতুন (৫৫), সিলেটের ওসমানীনগরে সাবিয়া বেগম (৩০) এবং হাসান আহমদ নামে দেড় বছরের এক শিশু এবং যশোরের অভয়নগরে লাইজু খাতুন (১৯) নামে এক কলেজছাত্রী মারা গেছেন। এ ছাড়া রংপুরের তারাগঞ্জে নয়া মিয়া (২৫) ও বদরগঞ্জে শামীম মিয়া বজ্রপ্রাতে মারা যান। কোনো কোনো স্থানে শিলাবৃষ্টি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, অনেক ঘরের চাল ফুটো হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, এত বড় শিলা তারা কখনও দেখেননি। বিভিন্ন স্থানে আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। এর মধ্যে সিলেট দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোসাদ্দেক আলী মুসা রয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সিলেট নগরী ও সুনামগঞ্জে ব্যাহত হয়েছে বিদ্যুৎ পরিসেবা। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রাস্তায় ও রেললাইনে গাছ ভেঙে পড়ে অনেকক্ষণ বন্ধ ছিল সড়ক ও রেল যোগাযোগ।

গতকাল বিকেল থেকেই দেশের উত্তরাঞ্চলে কালবৈশাখীর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে ধূলিঝড়ে দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ায় গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে রাস্তায়। হঠাৎ হাওয়ায় ফুটপাতের অনেক দোকানের পলিথিন উড়ে যায়। এ সময় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। পথচারীরা দোকানের ছাউনি, অফিস বা রাস্তার পাশের বিল্ডিংয়ে আশ্রয় নেন। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত সারাদেশে বজ্রসহ আরও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মঞ্জুর হোসেন বলেন, এটা কালবৈশাখীর মৌসুম। এখন ঘন ঘন এ ঝড় হানা দিতে পারে। কালবৈশাখীর কারণে নদীবন্দরগুলোতে সব নৌযানকে সাবধানে চলাচলের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

গতকালের কালবৈশাখীতে বিমান চলাচল, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহেও বেশ বিঘ্ন ঘটে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিকেল সোয়া ৪টা থেকে তিন ঘণ্টার জন্য সতর্কতা জারি করা হয়। এ সময় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া, বন্ধ রাখা হয় দেশের অন্যান্য বিমানবন্দর থেকেও ঢাকাগামী ফ্লাইটগুলো। শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম জানান, কক্সবাজার থেকে রিজেন্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে এলেও ঝড়ো হাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ ছাড়া ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটও দেরিতে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে অবতরণ করে।
এছারাও সারা দেশে কোথাও কোথাও সরক,নৌ ও বিমান যোগাযোগ পর্যন্ত বন্ধ ছিলো বলে জানা যায়।

কমেন্টস

কমেন্টস