আশারাফুলের ভুল, শিক্ষা পেয়েছিল বিসিবি

স্পোর্টস ডেস্কঃ

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা তো বটেই মোহাম্মাদ আশরাফুলের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ঘটনায় বড়সড় ধাক্কা খেয়েছিল দেশের পুরো ক্রীড়াঙ্গন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএলের গায়ে লেগেছিল কলঙ্কের দাগ। এক কারণেই দেশের সবচেয়ে জমজমাট লিগ (বিপিএল) বন্ধ ছিল এক মৌসুম। কলঙ্কের এই বদনাম ঘোচাতে লেগে গেছিল দীর্ঘ সময়। এখন প্রতি বছরই মাঠে গড়াচ্ছে বিপিএল। সেই ঘটনার পর থেকে ফিক্সিং ইস্যুতে বেড়েছে বিসিবির সতর্কতা, বেড়েছে খেলোয়াড়দের উপর নজরদারি।

আশরাফুলের মতো ভুল করার সুযোগ যেন আর কেউ না পান সেজন্য বিসিবির কী পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিসিবি পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য জালাল ইউনুস জানিয়েছেন পদক্ষেপের কথাগুলো।

যখন টিমগুলো হোটেলে অবস্থান করে তখন খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তারা নজরদারির মধ্যে থাকে এবং যদি কোনো অচেনা ব্যক্তিকে তাদের সাথে কথা বলতে দেখা যায় তাহলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। খেলোয়াড়রা এ ব্যাপারে সচেতন আছে। তারা জানে পরিণতি কী। সেজন্য তারা যদি দেখে কোনো অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে, কেউ কিছু অফার করে, তাহলে তারা সাথে সাথে আমাদের আকসুর(অ্যান্টি করাপশন ইউনিট) অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। জানিয়ে দেয় এ ধরণের কল এসেছে এবং আমরা সেই কল মনিটর করি।


আপনারা গত বিপিএল এবং তার আগের বিপিএল খেয়াল করলে দেখবেন, ম্যাচ চলাকালীন আমাদের স্থানীয় অ্যান্টি করাপশন ও লোকাল ভলান্টিয়ার্সরা ঘোরাফেরা করে থাকে। যারা স্প্রেড বেটিংয়ে জড়িত থাকে, দেখবেন মোবাইল নিয়ে বাইরে কথা বলছেঃ তাদের সারাক্ষণই আমরা মনিটরিং করছি। সেই ধরনের কাউকে পেলেই আমরা ধরে ফেলছি এবং পুলিশকে দিচ্ছি। আমরা এটার ব্যাপারে খুব বেশি সতর্ক। -বলেন বিপিএল আয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত জালাল ইউনুস।

গত বিপিএলে দৃশ্যমান হয়েছিল বেটিং নিয়ে বিসিবির বাড়তি সতর্কতার ব্যাপারটি। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রথম ধাপে মিরপুরের গ্যালারি থেকে ১০ ভারতীয় জুয়াড়িসহ মোট ৭৭জনকে সনাক্ত করা হয়। দেশে বেটিং সংক্রান্ত কঠোর আইন না থাকায় তাদের গ্রেপ্তার না দেখিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মাঠ থেকে বের করে দেয় বিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট ও সিকিউরিটি ইউনিট। চট্টগ্রাম ও সিলেট ভেন্যুতেও ধরা পড়ে কিছুসংখ্যক জুয়াড়ি।

স্টেডিয়ামে ক্রিকেটজুয়া ঠেকাতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে কাজ শুরু করেছ ভ্রাম্যমাণ আদালতও। ম্যাচের সময় অভিযান চালিয়ে কোনো জুয়াড়িকে সনাক্ত করতে না পারলেও ধূমপান করার অপরাধে কয়েকজন দর্শককে আর্থিক জরিমানা করেন তারা।

আশরাফুলের ফিক্সিংয়ের ঘটনা ২০১৩ সালে। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে। ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও এখনই জাতীয় দলে খেলার জন্য বিবেচিত হতে পারছেন না সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু স্পষ্ট করেই বলেছেন, এখন সুযোগ নেই দলে।

আংশিক নিষেধাজ্ঞা কাটার পর ঘরোয়া ক্রিকেটের লংগার ভার্সন ও ৫০ ওভারের ফরম্যাটে গত কয়েকমাস আশরাফুল ভালো করলেও বিগত পাঁচ বছর টি-টুয়েন্টি না খেলায় নির্বাচকদের আস্থাভাজন হতে পারছেন না। বিপিএল মানেই মাঠে তুমুল লড়াই। ফিটনেস, ইনটেনসিটি, সেটার অনেকটাই স্পষ্ট হবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেললে।

বিপিএলের ষষ্ঠ আসর আগামী বছরের জানুয়ারিতে। আশরাফুলের অপেক্ষা আরও কয়েকটি মাসের। তার আগে খেলবেন জাতীয় লিগ। নিজেকে প্রস্তুত করার সময় পাচ্ছেন যথেষ্ট। তারপরও প্রশ্নবোধক চিহ্ন থেকেই যায়। জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন তো মোহাম্মদ আশরাফুল? বয়সটা যখন ৩৪।

জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরতে বয়সের বাধা ডিঙিয়ে করে যেতে হবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। অনেক হিসেবের যোগফল মেলাতে পারলেই খুলবে বন্ধ দুয়ার। কঠিন, তবে অসম্ভবও নয়। প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমে পাঁচ সেঞ্চুরি করে আশরাফুলও জানান দিয়ে রেখেছেন ব্যাটে মরিচা পড়েনি!

 

কমেন্টস

কমেন্টস