বাংলাদেশ ফুটবলে যত বিদেশি কোচ

স্পোর্টস ডেস্কঃ 

২১তম বিদেশি কোচ হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছেন ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে। মজার ব্যাপার শেষ দশ বছরে দশম বিদেশি কোচ তিনি। কোচ যাওয়া আসার মিছিলে নতুন সংযোজনও বলা যায়। জুনের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় আসার কথা তার। দায়িত্ব গ্রহণ করছেন তিনি দেশের মানুষের একটি প্রশ্নকে সামনে রেখেই—কত দিন থাকবেন? অবশ্য সময়ই বলে দেবে তা। চলুন দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের আগের ২০ বিদেশি কোচের সাতকাহন।

বেকেল হফট (জার্মানি)

বাংলাদেশের প্রথম বিদেশি কোচ ছিলেন একজন জার্মান। ১৯৭৮ সালে লাল-সবুজের ফুটবলারদের দায়িত্ব নেন বেকেল হফট নামের ভদ্র লোক। দেশি-বিদেশি মিলে তিনি ছিলেন বাংলাদেশের তৃতীয় কোচ। দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮১ সাল পর্যন্ত। তার অধীনে এশিয়ান ফুটবল কাপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠার সাফল্য দেখায় বাংলাদেশ।

গেরহার্ড স্মিথ (জার্মানি)

এক জার্মানের বিদায়ের পর আরেক জার্মান কোচের আগমন। গেরহার্ড স্মিথ ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেন। তার অধীনে এশিয়ান গেমসে খেলে বাংলাদেশ। মাস কয়েকের বেশি অবশ্য টিকতে পারেননি তিনি। যদিও এশিয়ান গেমসে ভালো ফলই করেছিল দল।

নাসির হেজাজী (ইরান)

১৯৮৯ সালে ইরানি কোচের শরণাপন্ন বাফুফে। তখন মোহামেডানে কোচ হয়ে এসেছিলেন ১৯৭৮ বিশ্বকাপ খেলা নাসির হেজাজী। ইসলামাবাদ সাফ গেমসকে সামনে রেখে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

ওল্ডরিখ সোয়াব (সুইজারল্যান্ড)

এশিয়ান কোচ থেকে ফের ইউরোপে যায় বাংলাদেশের। এবার সুইজারল্যান্ডের ওল্ডরিখ সোয়াব। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ দলের চতুর্থ বিদেশি কোচ দায়িত্ব নেন। নাসির হেজাজীর মতো তার সামনেও মিশন ছিল সাফ গেমস। কয়েক মাসই ছিলেন দায়িত্বে।

ম্যান ইয়াং ক্যাং (দক্ষিণ কোরিয়া)

১৯৯৫ সালে ম্যান ইয়াং ক্যাংকে পঞ্চম বিদেশি কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ (তখন সার্ক গোল্ড কাপ) লক্ষ্য বেঁধে দেওয়া হয়। আসর শেষেই বিদায় নিতে হয় এই কোচকে। সাফে সেবার সেমিফাইনালে হেরে যায় বাংলাদেশ।

অটো ফিস্টার (জার্মানি)

বাংলাদেশকে প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা উপহার দেন অটো ফিস্টার। তার অধীনে ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারের গ্র্যান্ড রয়েল চ্যালেঞ্জ কাপে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের কোচ ছিলেন তিনি। যিনি বাংলাদেশ থেকে গিয়ে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপেও গিয়েছিলেন। আফ্রিকান দেশ টোগো আর অধীনে ২০০৬ বিশ্বকাপে খেলে।

সামির শাকির (ইরাক)

ইউরোপিয়ান কোচদের মাঝে একবার ইরানি কোচ আনা হয়েছিল। এবার আনা হলো ইরাকি কোচ। তিনি সামির শাকির। জাতীয় দলের সপ্তম বিদেশি কোচ ১৯৯৮ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের দায়িত্বে ছিলেন। তার অধীনেই ১৯৯৯ সাফ গেমসে প্রথমবারের মতো সোনার পদক জয় করে বাংলাদেশ। যদিও বাংলাদেশকে সাফ জিতিয়ে এর পর পরই তিক্ত অভিজ্ঞতা সঙ্গী করে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবনে নিজ দেশের হয়ে বিশ্বকাপও খেলেছেন সামির শাকির।

মার্ক হ্যারিসন (ইংল্যান্ড)

এবার ব্রিটিশ কোচ। বাংলাদেশের অষ্টম বিদেশি কোচ হিসেবে ২০০০ সালে দায়িত্ব পান মার্ক হ্যারিসন। ছয় মাসের বেশি টিকতে পারেননি। মালদ্বীপে একটি টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে সেখান থেকেই দেশে ফিরে গিয়েছিলেন।

জর্জ কোটান (অস্ট্রিয়া)

অটো ফিস্টার, সামির শাকিরের পর বাংলাদেশের আরেক সফল কোচ জর্জ কোটান। ২০০১ সালে দায়িত্ব নেন এই অস্ট্রিয়ান। ঘরের মাঠে ২০০৩ সালে বাংলাদেশকে সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন করেন। সেই টুর্নামেন্টের পর পরই তার বিদায়। তবে পরে বাংলাদেশে অনেকবার এসেছেন। এক মৌসুম আগেও আবাহনীর কোচ ছিলেন কোটান।

আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি (আর্জেন্টিনা)

২০০৫ সালে আর্জেন্টাইন কোচ আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার অধীনে ২০০৫ সাফ ফুটবলে খেলে রানার্স আপ হয় বাংলাদেশ। দুই বছর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

সৈয়দ নাঈমুউদ্দিন (ভারত)

ভারতীয় ফুটবলের দ্রোণাচার্য কোচ সৈয়দ নঈমুউদ্দিন। ২০০৭ সালে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। ছিলেন চার মাস। সাফল্য এনে দিতে পারেননি। তাই অন্য সবার মতোই বিদায়। বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে অবশ্য কিছু দিন আগেও নিয়মিত কোচিং করিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ মোহামেডানের কোচ ছিলেন।

এডসন সিলভা ডিডো (ব্রাজিল)

আর্জেন্টাইন কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল একবার। এবার ব্রাজিলিয়ান। ২০০৮ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। খুব আলোচিত-সমালোচিত ছিলেন তিনি। শৃঙ্খলার কারণে এক ঝাঁক তারকাকে ছাটাই করতে তিনি একটুও ভাবেননি। এক পর্যায়ে অবশ্য তাকেই দেশের বিমানের টিকিট ধরিয়ে দেওয়া হয়।

জোরান জর্জেভিচ (সার্বিয়া)

২০১০ সালে নিয়োগ পান জোরান জার্জেভিচ। দায়িত্বে ছিলেন মাত্র একমাস। তার অধীনে এসএ গেমসে ফুটবলে দ্বিতীয় বারের মতো সোনা পায় বাংলাদেশ। কিন্তু পরে চুক্তির অঙ্কের পরিমাণ নিয়ে দরকষাকষি শুরু করেন। বাফুফে তাকে বরখাস্ত করে।

রবার্ট রুবচিচ (ক্রোয়েশিয়া)

একেবারে নিপাট ভদ্রলোক। তার কথা শুনতে হলে মুখের কাছে কান নিতে হতো। ১৪তম বিদেশি কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে। কিন্তু ২০১১ সালে কাউকে কিছু না জানিয়ে পালিয়ে যান।

নিকোলা ইলিয়েভস্কি (মেসিডোনিয়া)

মেসিডোনিয়ান এক কোচেরই আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি আসেননি। এসেছেন তারই স্বদেশী নিকোলা ইলিয়েভস্কি। ২০১১ সালে দায়িত্ব নেন। এক বছরের পুরো চুক্তি শেষ করতে পারেননি। বিদায় নিতে হয় তাকে।

লোডভিক ডি ক্রুইফ (হল্যান্ড)

হল্যান্ডের লোডভিক ডি ক্রুইফ বাফুফের খুবই প্রিয়। তাই ঘুরে ফিরে অনেকবারই বাংলাদেশের দায়িত্ব তার কাঁধে পড়েছে। ২০১৩ সালে প্রথম দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত আসা যাওয়া করেছেন।

ফাবিও লোপেজ (ইতালি)

ইতালিয়ান এই কোচ নিয়ে ছিল তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। ফুটবলারদের নিয়ে এমনসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করলেন যে তার ফুটবল জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তোলে দেন অনেকে। বহিষ্কার হয়েই বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছে তাকে।

গঞ্জালো মারেনো (স্পেন)

একটি ম্যাচে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করেছেন গঞ্জালো মারেনো। তার আগে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল ও অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে কাজ করেছেন।

টম সেন্টফিট (বেলজিয়াম)

২০১৬ সালে দায়িত্ব নেন এই বেলজিয়ান কোচ। একই বছর বিদায়। তার অধীনেই ভুটানের বিপক্ষে সেই কুখ্যাত হার বাংলাদেশের।

অ্যান্ড্রু ওর্ড (অস্ট্রেলিয়া)

বিশ্বকাপ ফুটবলের বাছাই পর্বের প্লে অফে ভুটানের বিপক্ষে ভরাডুবির পর বরখাস্ত হন জাতীয় দলের বেলজিয়ান কোচ টম সেন্টফিট। এরপর বেশ ক’মাস জাতীয় দলের কোচের পদটা ফাঁকা পড়ে ছিল। পরে ইংলিশ বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। জাতীয় দলের কার্যক্রম স্থবির থাকায় তিনি বসে ছিলেন অনেকদিন। তার অধীনে লাউসের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। ২-২ গোলে ড্র হয় সেই ম্যাচ। কিন্তু সেই ম্যাচের পর পদত্যাগ করেন ওর্ড। দায়িত্ব নেন থাইল্যান্ডের একটি ক্লাবের।

জেমি ডে (ইংল্যান্ড)

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইংলিশ ও ২১তম বিদেশি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। একটি বড় প্রশ্নকে সঙ্গী করে—কত দিন থাকবেন তিনি?পরিবর্তন

কমেন্টস

কমেন্টস