ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করলেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার

স্পোর্টস ডেস্কঃ

পাকিস্তানি ক্রিকেটার দানিশ কানেরিয়া ২০১২ সালে ফিক্সিংয়ের দায়ে আজীবনের জন্য নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন। পাকিস্তান জাতীয় দলের সাবেক এই লেগ স্পিনার অবশেষে স্বীকার করলেন ফিক্সিংয়ে নিজের সম্পৃক্ততার কথা।

বুধবার ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে কানেরিয়া দোষ স্বীকার করে নেয়ার কথা জানিয়েছে। মূলত ফিক্সিং কেলেঙ্কারি নিয়ে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরার প্রামাণ্যচিত্রের বরাত দিয়েই ডেইলি মেইল কানেরিয়ার বক্তব্য তুলে ধরেছে।

সেখানে কানেরিয়া বলেন, ‘আমার নাম দানিশ কানেরিয়া। আমি স্বজ্ঞানে এটি স্বীকার করছি যে, ২০১২ সালে আমার ওপরে ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের আনা অভিযোগটি সত্য ছিল। এই দায় স্বীকার করতে আমার অনেক সাহস জমাতে হয়েছে। কারণ কেউই মিথ্যে নিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারে না।’

একইসঙ্গে ক্লাব ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন কানেরিয়া, ‘আমি ওয়েস্টফিল্ডের কাছে ক্ষমা চাইতে চাই। ক্ষমা চাই এসেক্সে ক্লাব ও সতীর্থদের কাছেও। সেই সঙ্গে এসেক্সের ক্রিকেট সমর্থক ও পাকিস্তানের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

২০০৯ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে কানেরিয়াকে আজীবন নিষিদ্ধ করে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। আপিল করেও হয়নি শেষ রক্ষা। আপিল খারিজ করে দেয় ইসিবি। একই পথে হাটে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি)। পাকিস্তান ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাও কানেরিয়ার আজীবন নিষেধাজ্ঞার সাজা বহাল রাখে।

ওয়েস্টফিল্ড তখনই ইসিবির কাছে ফিক্সিংয়ের কথ স্বীকার করেছিলেন। তিনি জানান, ২০০৯ সালে ডারহামের বিপক্ষে এক ম্যাচে নির্দিষ্ট ওভারে নির্দিষ্ট সংখ্যক রান দেওয়ার শর্তে ৬০০০ পাউন্ড নিয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনায় কারাদণ্ড পর্যন্ত হয়েছিল ওয়েস্টফিল্ডের। ওই ঘটনার মূলত নাটের গুরু হিসেবে কাজ করেছিলেন কানেরিয়া। তবে যথাযথ প্রমাণ না থাকায় সে দফা পার পেয়ে যান তিনি।

তখন থেকেই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নজরদারিতে ছিলেন এই লেগস্পিনার। পরের দুই বছর বেশ কয়েকবার জবানবন্দী দেন কানেরিয়া। কিন্তু ২০১২ সালে ইসিবি তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেও আপিল করেন তিনি। কিন্তু নিজের পক্ষে রায় আনতে পারেননি।

প্রায় ছয় বছর আগে নিষিদ্ধ হওয়া কানেরিয়া এখনও পাকিস্তানি স্পিনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেট সংগ্রাহক। ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের জার্সি গায়ে ৬১টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। মাত্র ৩৪.৭৯ গড়ে তার নামের পাশে রয়েছে ২৬১টি উইকেট।

কমেন্টস

কমেন্টস