ফাইনালে সেই ভারত, যেসব নিয়ে ভাবতেই হবে!

স্পোর্টস ডেস্কঃ

২০১৬ এশিয়া কাপ আসরের মতো ইউনিমনি এশিয়া কাপের ফাইনালে আবারও সেই ভারতকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শেষবার ২০১৬ সালে এই ভারতের কাছে হেরেই এশিয়া কাপের মতো বড় আসরের শিরোপা থেকে বঞ্চিত হয় টাইগাররা। তবে সেবারের সেই আসর ছিল টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে, এবার দেখার পালা ওয়ানডে ফরম্যাটে সাফল্য খুঁজে পায় কিনা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

বাঁচা-মরার সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারত মানেই তো গত এশিয়া কাপের দুঃসহ স্মৃতি। এশিয়া কাপের ইতিহাসে সেবারই (২০১৬) প্রথম টি-টোয়েন্টি সংস্করণ মাঠে গড়িয়েছিল।

পুরো আসর ভালো খেলে ফাইনালে উঠে আসা বাংলাদেশ শিরোপা লড়াইয়ে তেমন প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেই ফাইনালে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ১৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১২০ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ৭ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের জয় পেয়েছিল ভারত।

এবার কি তাহলে সেই হারের জ্বালা মেটানোর পালা? এশিয়া কাপে এবারসহ চার টুর্নামেন্ট মিলিয়ে তিনবার ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছিল ফাইনালের। সেই হারের স্মৃতি ভোলা সম্ভব? শ্বাসরুদ্ধকর সেই ম্যাচে পাকিস্তানের ৯ উইকেটে ২৩৬ রান তাড়া করতে নেমে ২ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

মুশফিক-সাকিবের সেই কান্না এখনো পোড়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের। গত টুর্নামেন্টে সুযোগ পেয়েও মোছা যায়নি সেই কান্না। এবার? প্রতিপক্ষ তো সেই ভারত—মুশফিকদের মধ্যে আলাদা একটা তাড়না থাকাই স্বাভাবিক।

তবে এবার আর এই দলে থাকছেন না বাংলাদেশ দলের তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল, একইসাথে আজকের ম্যাচের মতো ফাইনালেও সাকিব আল হাসানকে পাচ্ছেনা বাংলাদেশ। দলের অন্যতম ভরসা উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকেও নিয়েও থাকছে শঙ্কা, পুরো আসর তিনি খেলে গেছেন ছোটখাটো ইনজুরি নিয়ে, পারবেন কি ফাইনালে সেরাটা দিতে?

এসবের থেকে আরো ভাবনার জায়গাটা অন্যখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। ভারতের বিপক্ষে কেমন একাদশ নিয়ে খেললে ভালো করবে দল এই ভাবনাটাও থেকে যাচ্ছে। পাকিস্তান ম্যাচের মতো সেই ম্যাচেও কি থাকবে তিন পেসার ও এক স্পিনার, না এক পেসার বা এক ব্যাটসম্যান কমিয়ে দলে ঢুকবেন নাজমুল হোসেন অপু।

অন্যদিকে, ভারতের একাদশ নিয়েও ভাবনার জায়গা থাকছে টাইগার শিবিরে। এক ডান হাতি ও এক বাঁ-হাতি ওপেনার নিয়ে শুরুটা ভালোই করছে ভারত। রোহিত শর্মা ও শেখর ধাওয়ান দুজনই আছেন ফর্মে, অবশ্যই এই ব্যাটসম্যানকে নিয়েও বোলিংয়ে ছক কষতে হবে টাইগার দলপতিকে। পরপর দুই ম্যাচ ভালো রান পাওয়ায় বাংলাদশের বিপক্ষে সুযোগ পেতে পারেন আম্বাতি রাইডু, তাকেও নজরে রাখতে হবে টাইগারদের।

এছাড়া, ভারতীয় বোলিং অ্যাটাকে খুব ভালোভাবেই নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে পেস বোলার জাস্প্রিত বুমরাহ্‌, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের তাকে নিয়ে অনেক সতর্ক থাকতে হবে। ভয় থাকছে ভারতের চায়নাম্যান বোলার কুলদীপ যাদবকে নিয়েও, যেদিন তিনি সেরাটা দেন প্রতিপক্ষ দলের জন্য একাই কাল হয়ে দাঁড়ান। লেগস্পিনার চাহালও রয়েছেন বেশ ফর্মে, সাবধান থাকতে হবে সে জায়গাতেও।

এতোসব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে কালকে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ শুরুর পরই। অবসান ঘটবে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেরা একাদশ নিয়েও। দিনশেষে দেখার বিষয় টাইগার শিবির কতোটা নতুন ছক কষে সেরা খেলা খেলে জয় ছিনিয়ে আনে!

কমেন্টস

কমেন্টস