ফুটবলের হারিয়ে যাওয়া বিখ্যাত ২-৩-৫ ফর্মেশন

স্পোর্টস ডেস্কঃ

ফুটবল এবং ফর্মেশন, খেলাটির সূচনালগ্ন থেকেই একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। আধুনিক ফুটবলে ম্যাচ কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ এই ফর্মেশন, যেখানে কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী আক্রমণ থেকে শুরু করে রক্ষণ দেয়াল গড়ার ভিত তৈরি হয়। শুরুর দিকে ফর্মেশন যে রূপ ছিল, শত বছরেরও বেশি সময়ে বিবর্তনে পর সেই রূপ অনেকটা অন্য চেহারায় ধারণ করেছে।

ধাপে ধাপে ফুটবল ফর্মেশনে পরিবর্তন এসেছে ব্যাপকভাবে, তবে শুরুর দিকে পরিবর্তনের এই ধারায় সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে ফুটবলের নিয়ম পরিবর্তন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধন। ১-১-৮ ফর্মেশনের হাত ধরে শুরু হওয়ার পর আজকে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৪-৩-৩ বা ৪-৩-২-১ এর মতো জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ফ্যাশনে।

কৌশলের খাতিরে মাঝের দীর্ঘ এই সময়ে এসেছে আরও অনেক ফর্মেশন। সময়ের সাথে জনপ্রিয় সেই ফর্মেশনগুলো হারিয়ে গেলেও বর্তমান ধারার ফুটবলের জন্য তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিল অসাধারণ এক পথ।

৪টি পর্বের মাধ্যমে সেসব হারিয়ে যাওয়া জনপ্রিয় ফর্মেশনগুলোর কথা তুলে ধরা হবে সংক্ষেপে। আজ তুলে ধরা হলো দ্বিতীয়টি-

২-৩-৫ (পিরামিড) ফর্মেশন

পূর্বসূরি ফর্মেশনের মতো একতরফা আক্রমণ কেন্দ্রিক না হয়ে এই ফর্মেশনে রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে যথেষ্ট সঙ্গতিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৮৮০ সালের দিকে এই ২-৩-৫ বা পিরামিড ফর্মেশন ফুটবল মাঠে দেখা গেলেও, কৌশল বিবেচনায় ও অফ-সাইড নিয়মে পরিবর্তন আসার দরুন ১৮৯০ সালের মধ্যে গোটা ফুটবল দুনিয়ায় দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। শুধু জনপ্রিয়তাই নয়, ১-১-৮ ফর্মেশনের মতো সহসা হারিয়ে না গিয়ে একটা দীর্ঘ সময় ফুটবল মাঠে টিকে ছিল এই ফর্মেশন। এই ফর্মেশন ব্যবহার করেই ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে স্বর্ণপদক এবং ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল উরুগুয়ে।

১৯০৭ সালের পূর্ব-পর্যন্ত মাঠের যেকোনো স্থানেই অফ-সাইডের ফাঁদে পড়তো খেলোয়াড়েরা, এমনকি তারা যদি নিজেদের ডি-বক্সের ভেতরে বা গোললাইনের কাছাকাছিও থাকতো! এরপর অবশ্য অফ-সাইড প্রয়োগের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয় প্রতিপক্ষের অর্ধ থেকে এবং একইসাথে গোল-কিক ও কর্নারের সময় অফ-সাইড বাদ দেওয়া হয়। নতুন এই অফ-সাইডের নিয়ম প্রয়োগ করার ফলে আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে একটা সামঞ্জস্য গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছিল এবং এই কাজটিতে বেশ সফলতা এনে দেয় পিরামিড ফর্মেশন।

পিরামিড ফ্যাশনে একজনের পরিবর্তে দুজন ডিফেন্ডার ব্যবহার করা শুরু হয় এবং তাদের ঠিক উপরে থাকত তিনজন মিডফিল্ডার এবং সেন্টার ফরোয়ার্ডকে কেন্দ্র করে আক্রমণে থাকত মোট পাঁচজন খেলোয়াড়। দুজন ডিফেন্ডার মূলত রক্ষণ সামাল দিত রক্ষণের ঠিক কেন্দ্র দিয়ে এবং তাদের কাজ ছিল প্রতিপক্ষের কেন্দ্রে থাকা তিন ফরোয়ার্ডের (সেন্টার ফরোয়ার্ড ও দুজন ইনসাইড ফরোয়ার্ড) জোনালি মার্ক করা।

মাঝমাঠে থাকা মিডফিল্ডারদের বলা হতো হাফব্যাক, যারা প্রতিপক্ষের উইঙ্গার ও ইনসাইড ফরোয়ার্ডদের আটকানোর পাশাপাশি আক্রমণ গড়ে তুলতেও সাহায্য করতো। এক্ষেত্রে অবশ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো তিনজনের মাঝে থাকা হাফব্যাক বা সেন্টার মিডফিল্ডার, যার কাজ ছিল আক্রমণ শুরু করতে সাহায্য করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড বা সবচেয়ে বিপদজনক খেলোয়াড়কে মার্ক করা।

সূত্রঃ রোর বাংলা

কমেন্টস

কমেন্টস