‘নতুন প্রজন্ম প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যে আশ্বাস অনেকদিন মনে রাখবে’

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

শুক্রবার (আজ) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে যে কথা দিয়ে রেখেছিলেন তা পালনে সক্ষম হননি। এসময় তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এবং নতুন প্রজন্ম প্রধানমন্ত্রীর এই মিথ্যে আশ্বাস অনেকদিন মনে রাখবে।’

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র বন্ধ এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের দাবিতে প্রতিবাদী যুব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সেসময় আরো বলে, শিক্ষার্থীদের কাছে এখন যেই কথা দিয়ে তিনি সরে যেতে চাইছেন সেই কথা মোটেও টেকসই নয়। যদি আপনারা (শিক্ষার্থীদরা) সত্যিকার অর্থে প্রধানমন্ত্রীর কথায় কোটা প্রত্যাহার করে নিতে চান আর যদি বাধা থাকে হাইকোর্টে, তাহলে সেই বাধা আপনারা অবশ্যই দূর করতে পারেন।

সরকারের নিয়ত যদি ঠিক থাকতো তাহলে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায় এমেন্ড (সংশোধন) করতো উল্লেখ্য করে মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে হাইকোর্টের নাকি একটা রায় আছে- মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন। আমি যতদূর জানি, হাইকোর্টে এ বিষয়ে কোনও রায় আছে বলে আমার মনে হয় না। তারপরও হাইকোর্টের যদি এ ধরনের কোনও রায় থাকে সেটা মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ব্যাপারে আছে। নাতি-নাতনিদের ব্যাপারে আছে বলে আমি মনে করি না। তারপরও বলবো প্রধানমন্ত্রী নিজের কথা রক্ষা করার জন্য, তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য সরকারই তো হাইকোর্টে গিয়ে সেটাকে এমেন্ড (সংশোধন) করতে পারে।

যদি সরকার মনে করে হাইকোর্টের রায় হলো একমাত্র বাধা, আর তাদের যদি প্রতিশ্রুতি পালন করতে এখনও রাজি থাকেন তাহলে রবিবার দিন সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল একটু কষ্ট করে যান এবং সোমবারে বিষয়টি লিস্টে আনেন তাহলে যদি রায়টাকে সংশোধন করে নেন বা রিভিউ করে নেন। কতো ধরনের পথ আছে। যদি নিয়ত ঠিক থাকে তাহলে এটাই করতেন।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অত্যাচার-নিপীড়নের কথা তুলে ধরে মওদুদ বলেন, ‘তিনজন কি নিরীহ ছেলে! রাশেদ ১০ দিনের রিমান্ডে। তার মা হাহাকার করছে যে, আমার ছেলেটাকে ফিরিয়ে দেন। মা তো মা’ই, প্রধানমন্ত্রীও তো একজন মা। সুতরাং কেন এই অত্যাচার-নিপীড়ন। বরং কালকে বক্তৃতা শুনে একটু মর্মাহত হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- এদেরকে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এরা নাকি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে, আরেকজন তো বললেন এরা নাকি জঙ্গি। শোনেন, এটাই হলো ফ্যাসিবাদ। এই মন মানসিকতাই হলো ফ্যাসিবাদ।

আজকে এতো বড় এই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নাই। এটা সরকার জানে। তারা চায় মেধার ভিত্তিতে চাকরিতে নিয়োগ হোক, তারা এতো কষ্ট করে লেখাপড়া করে, তাদের পিতা-মাতারা বেশির ভাগই তো গরিব। জমি বিক্রি করে তাদেরকে লেখাপড়া করায়। তারা মেধাবী ছাত্র, তারা পরীক্ষায় পাস করে ফার্স্ট হয়। কিন্তু তারা কোটার জ্বালায় পড়ে তারা চাকরিটা পায় না। আজকে কতো বছর ধরে তারা এই ব্যথা বহন করছে। তার একটি বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, এটা একটা স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ। এখানে মুক্তিযুদ্ধ কিংবা মুক্তিযোদ্ধার ব্যাপারে কোনও বক্তব্য নাই। এটা হলো তাদের ন্যায্য কথা।’

ক্ষমতায় টিকে থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাতুড়ি দিয়ে তরিকুলের পা এবং মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। এই অপরাধের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে অবশ্যই হবে। আজকে আপনারা ভাবতে পারেন আপনাদেরকে কেউ ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। কিন্তু এটা ভাববেন না। এইটা ভাববেন না এজন্য সকলের ওপরে একজন মহাবিচারক সবকিছু দেখছেন। রাজনীতি একটি গতিশীল বিষয়, যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আমরা মনে করি দেশের মানুষ প্রস্তুত হয়ে গেছে মাঠে নামার জন্য। এখন আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে উপযুক্ত সময়ের জন্য।’

স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এ জাহিদ, সেলিমা রহমান। সভাপতিত্ব করেন স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

কমেন্টস

কমেন্টস