আইন-আদালত কি তবে অলস হয়ে যাবে?  

সেদিন একজন খুব ‘বড় মাপের’ লোকের কথা শুনছিলাম টিভিতে। মানে টক শো তে খুব বড় গলায় বলছিলেন, এই যে মাদক ব্যবসায়ীদের ক্রসফায়ারে দেয়ার বিপক্ষে যারা কথা বলছে তারা সব মাদকসেবী! কোনদিন তার সাথে কথা বলার সুযোগ হলে তাকে বলবো, আমি আছি যে কখনও কোন মাদক তো দূরে থাক ঠিক মত চা’ও খাই না। যদি বিশ্বাস না হয়, দরকারে তাকে বলবো, চলেন রক্ত পরীক্ষা করে প্রমাণ করে দেই। 

এই কথা বলার কারণ একটাই, আমিও এই মাদক ব্যবসায়ীদের বিচার ছাড়া হত্যার বিপক্ষে। আচ্ছা একটা অপরাধ দমন করতে গিয়ে আর একটা বড় অপরাধকে কিভাবে আপনি সাধুবাদ দিচ্ছেন। তাহলে কি বুঝে নিবো , আপনার বিচার-বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা নেই। খালি একটা মাথা আর তার ভেতর কিছু স্রেফ ঘিলু নিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছেন!

দেখুন আপনাদের মত কিছু মূর্খ তথাকথিত “বড় মাপের” লোকের জন্য আজ একরামের মত মানুষ বিনা বিচারে ‘হত্যা’ হল। দুঃখিত আপনাদের ভাষায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হল। ফেসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে এক বয়স্ক মানুষের ছবি যিনি কিনা এই অভিযানের নামে বিনা অপরাধে গ্রেফতার হয়েছেন।

রাষ্ট্রযন্ত্র বললো, দমন করতে হলে সব মেরে সাফ কর! আর ওমনি আপনারাও নেমে গেলেন একেক জন তেলের ড্রাম হয়ে এর পক্ষে সাফাই গাইতে। আপনারা যেভাবে মাঝে মাঝে টক শোগুলোতে রাষ্ট্রযন্ত্রের সাফাই করেন কাত হয়ে হয়ে, এতে আমার খুব  ভয় লাগে। ওত কাত হওয়াতে যদি তেল গড়িয়ে পরে যায়!

দেখুন আপনারা যদি এমন বিচার বহির্ভুত হত্যাকে সমর্থন দিয়েই যেতে থাকেন , তাহলে তো মনে হয় কয়েকদিন পর আইন-আদলতের আর কোন কাজই থাকবে না। এত ছেলে-মেয়ে প্রতি বছর ওকালতি পড়ে কি করবে তখন? তবে ছোটবেলায় একটা কথা শুনতাম গ্রামে। “যে দেশে বিচার নাই, সে দেশে শকুন থাকে না।” একদিক দিয়ে অনেকদিন ধরে এমনিও দেশে শকুন দেখি না!

অবশ্য রাষ্ট্রযন্ত্র তো অন্যায় করেই যাবে। কারণ আপনারা ভ্যাট-ট্যাক্স দেয়া দেশের মালিকরা মানে জনগণ তো একেকটা বড় বড় সাইজ গলধা চিংড়ি মাছ হচ্ছে। যাদের মেরুদন্ড নেই আর মাথা ভর্তি গু নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যাদের নেই প্রতিবাদ করার মতও কোন ভাষা! তাদের সব রাগ যেন কেবল উগড়ে দেয় ফেসবুকে। বেশ দায়িত্ব শেষ, বাংলাদেশ!

একটা সময় ছিল বাম কিছু উগ্রবাদী সংগঠনের ট্যাগ লাইন ছিল, বন্দুকের নলের ডগাই সকল ক্ষমতার উৎস। দিন দিন ট্যাগ লাইনটা রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করে নিয়েছে। যদিও তারা বাম মনোভাব পোষণ করে না, তারপরও । এভাবে যদি চলতে থাকে, একটা সময় আসলেই বিষ্ফোরণ হবে। বিষ্ফোরণ হতেই হবে। কারণ সবকিছুরই একটা শেষ আছে। পৃথিবীতে কোন কিছুই স্থায়ী নয় ‘হে রাষ্ট্র’।

সবকিছু মিলে মানসিক অবস্থা ভাল না। তাই লেখা খুব ছাড়া ছাড়া হয়েছে। আসলে কিছু করার ছিল না। লেখারও দরকার ছিল মনে হয়েছে। কিছু বলতে পারি না, তাই বলে কি কিছু লিখবোও না?

মুনওয়ার আলম নির্ঝর

সাংবাদিক, লেখক ও মুক্তচিন্তক

কমেন্টস

কমেন্টস