ইরানে পালিত হচ্ছে ‘হিজাব সপ্তাহ’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নারীরা হিজাব ও মর্যাদা সপ্তাহ পালন শুরু করেছে।  দেশটিতে মঙ্গলবার (১০ জুলাই) থেকে এই ‘হিজাব সপ্তাহ’ পালন শুরু হয়। ইরান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম তেহরান টাইমস এ খবর নিশ্চিত করেছে।

হিজাব ও মর্যাদা সপ্তাহ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইরানের উইমেন্স বাসিজ অরগানাইজেশন। সংবাদ সম্মেলনে হিজাব ও মর্যাদাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও ইসলামের অন্যতম মূলনীতি হিসাবে উল্লেখ করেন সংগঠনটির প্রধান মিনৌ আসলানি।

ইসলামে হিজাবের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরানিরা সবসময় পরিবারের ভিত্তি মজবুতের জন্য হিজাবকে একটি বাস্তবিক বিষয় হিসাবে বিবেচনা করে। ধার্মিক নারীরা ধর্মীয় শিক্ষার ভিত্তিতে বিশ্বাস করেন যে, হিজাব পালন না করা হলে সমাজে দুর্নীতি তৈরি হবে।

পশ্চিমারা নারীদের শারীরিক দিকের প্রতি বেশি নজর দেয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশ্চিমাদের ধর্ম নিরপেক্ষ সংস্কৃতি নারীদের পরিচিতিকে বিবেচনা করে না।

এই বিষয়ে ব্যাখ্যা করে আসলানি বলেন, ইরানের শত্রুরা হিজাব ইস্যুটিকে অপদস্থ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এটিকে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য একটি প্রতিবন্ধকতা হিসাবে তুলে ধরছে।

অন্যদিকে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান প্রমাণ করেছে যে, ইসলামি পোশাকবিধি মেনে চলা একজন নারীও সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক কর্তৃত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে যোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ইরানে ১২ জুলাই ‘হিজাব দিবস’ পালন করা হয়। ১৯৩৫ সালে ইরানের তৎকালীন শাসক রেজা শাহ পাহলভি (১৯২৫ থেকে ১৯৪১ সাল) মাশহাদের গোহারশাদ আকা মসজিদে নারীদের হিজাব সরাতে বাধ্য করেন। তার এই ধরনের জঘণ্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে এ বছরের ১২ জুলাই কিছু মানুষ শহীদ হয়। সে থেকে এ দিনটি উপলক্ষে হিজাব ও মর্যাদা সপ্তাহ পালন করে ইরান।

এদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে ‘হিজাব দিবস’ পালন করা হয় প্রতি বছরের পহেলা ফেব্রুয়ারি। ২০১৩ সালে ‘বিশ্ব হিজাব দিবস’ প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাক্টিভিস্ট নাজমা খান। মূলত সকল ধর্ম ও শ্রেণি পেশার মানুষকে হিজাব পরিধান ও পর্দার সুন্দর অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করতে দিবসটি পালন করা হয়। এমনকি অমুসলিম নারীদের হিজাবের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যও দিবসটিকে একটি সুযোগ হিসাবে বর্ণনা করে থাকেন ইভেন্টের আয়োজকরা।

কমেন্টস

কমেন্টস