যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া কি ফের সংঘাতের পথে?

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

নতুন করে ফের সংঘাতের রাস্তায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ংকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন ‘গ্যাংস্টারের মতো’ আচরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রকে এ ভাষাতেই আক্রমণ করল উত্তর কোরিয়া। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও উত্তর কোরিয়া সফর শেষে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের নিন্দা জানাল পিয়ংইয়ং।

এসব বৈঠকে পম্পেওর আচরণকে ‘অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক’ বলেও উল্লেখ করেছে উত্তর কোরিয়া। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মিল পাওয়া যায় না। পম্পেও বৈঠক শেষে দাবি করেছিলেন, তার দুদিনব্যাপী পিয়ংইয়ং সফরের আলোচনায় ‘অগ্রগতি’ হয়েছে।

গতমাসে সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের পর এই প্রথম পম্পেও পিয়ংইয়ং সফর করলেন। কিম ও ট্রাম্পের বৈঠকে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে সমঝোতা হয় কিন্তু তা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে কোনও মতৈক্য হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরের শীর্ষ বৈঠকের চেতনা লঙ্ঘন করে উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করার জন্য একতরফা চাপপ্রয়োগ করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা ধারণা করেছিলাম যুক্তরাষ্ট্র গঠনমূলক পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হবে। এবং আমরা বিনিময়ে কিছু পাব। কিন্তু ওয়াশিংটনের বর্তমান আচরণ অব্যাহত থাকলে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রচেষ্টা ধাক্কা খেতে পারে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ভেবে থাকে গ্যাংস্টারের মতো আচরণ করে উত্তর কোরিয়াকে তার দাবি মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে তাহলে সে মারাত্মক ভুলের মধ্যে রয়েছে।’

মাইক পম্পেও শুক্র ও শনিবার দুদিনব্যাপী সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সাক্ষাৎ পাননি। তবে তিনি কিমের ডান হাত হিসেবে পরিচিত জেনারেল কিম ইয়ং-চোলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ ছাড়া, উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি ইয়ং হোর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে।

কমেন্টস

কমেন্টস