অপেক্ষায় শুকান্তের পরিবার

প্রসেনজিৎ দাস, ত্রিপুরা প্রতিনিধিঃ

অধরা রয়ে গেছে  শুকান্ত হত্যার মূল আসামিরা। জেলা আরক্ষা প্রশাসন এখনো কানামাছি খেলছে।  গুজবের হিংস্রতায় মৃত সুকান্ত চক্রবর্তীর হত্যাকারীদের মধ্যে মোট ৬ জন পুলিশের জালে উঠলেও সপ্তাহ পেরোনোর অধরা রয়ে গেছে মূল আসামিরা।

উলঙ্গ জেলা আরক্ষা প্রশাসন এখনো কানামাছি খেলছে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করতে। অথচ মহকুমা আরক্ষা প্রশাসনের কাছে পুরো খবর রয়েছে। মূল অভিযুক্ত আরো ৬ জন আসামি কলাছড়া এলাকাতেই অবস্থান করছে। আজ সকালেও মূল অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজন বাইক নিয়ে মনুবাজার এসে মাংস নিয়ে গেছে পুলিশের সাদাপোশাক বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে।

গত তিনদিন ধরে মনুবাজার থানার অফিসাররা দফায় দফায় আসামীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে কলাছড়া এলাকায় হানা দিলেও সাফল্য ছিলো শূন্যের কোঠায়। আজ শেষ বেলায় দুইজন নথীভুক্ত আসামি পুলিশের পাতা ফাদে পা দেয়। তারা হলেন- (১) গঙ্গারাম ত্রিপুরা (৩২) (২) কৃষ্ণ দেবনাথ (২৮), দুইজনের বাড়িই কলাছড়া এলাকায়।

তবে ওইদিন যারা সামনের সারিতে থেকে সরকারি তথ্য দপ্তরের প্রচার গাড়িটি ভেঙ্গে দুরমুর করে টেনে হিচড়ে সুকান্তকে ড্রেনের কোনায় নিয়ে লাকড়ির চেলি দিয়ে মাথায় আঘাত করতে করতে উল্লাস করেছিল। তাদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকী আরো চারজন আসামি আজো অধরা। অথচ গোপন পুলিশি সূত্রই জানাচ্ছে, এরা আজ এক সপ্তাহ ধরেই কলাছড়াতেই অবস্থান করছে।

সাব্রুমের মানুষ তথা শুভ মানসিকতার জনমানুষ এব্যাপারে দুষছেন পুলিশকেই। তাদের বক্তব্য কিভাবে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে এরা এলাকায় অবস্থান করছে। মৃত সুকান্তের পরিবারও সঠিক বিচারের আশায় দিন গুজরান করছে। সরকারের প্রতি আস্থা থাকলেও আল্লা প্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থা এখনো শুন্যের কোঠায়।

গত এক সপ্তাহ ধরে মহকুমার প্রতিটি এলাকায় শাসক বিজেপি দলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল, মৌন মিছিলের খামতি নেই। অপরাধীদের গ্রেপ্তার আর সুকান্তের মৃত্যুর সঠিক সুবিচার চাওয়ার জন্য প্রতিদিন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হলেও পুলিশের গাফিলতিতে আজও অধরা মূল আসামিরা।

কলাছড়া কান্ডে মুখ পুড়েছে জেলা আরক্ষা প্রশাসনেরও। ভূতপূর্ব এস পি’র আমলে সামান্য একটা রোডে এক্সিডেন্ট এর ক্ষেত্রেও পুলিশ দশ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অভ্যাসে পরিণত করেছিল। সেখানে এতবড় একটা ‘ল এন্ড অর্ডার’ ব্রেক করার পরও আরক্ষাবাহিনী কেন ঢিমেতালে এগোচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।

কলাছড়ায় সুকান্ত হত্যাকান্ডের পর গোপন পোশাকে পুলিশের দল ঘটনাস্থলসহ পুরো এলাকা কর্তন করে নিলেও আজও দুই অধরা মনুবাজার এসে মাংস নিয়ে গেছে। এযেন, চোর-পুলিশ খেলা! তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামীকাল সকালের আগেই এরা ধরা পড়বে। যতক্ষণ না এরা ধরা পড়ছে, ততক্ষণ সুকান্ত হত্যার বিচার ও শুরু হতে পারছে না। তাই সুকান্তর পরিবার আগামী কালের অপেক্ষায়ই রয়েছে।

কমেন্টস

কমেন্টস