রোহিঙ্গা নিধন এখনো বন্ধ হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

গেলো বছরের শেষের দিকে রোহিঙ্গা নিধন ও বিতারনের মাত্র ছিলো চরমে। মায়ানমার থেকে প্রায় ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। তারপর থেকে ধারণা ছিলো রোহিঙ্গা নির্যাতন বা নিধন কমেছে। কিন্তু মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার যেইদ রা’আদ আল হুসেইন বলছে, ‘মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য এখনো জ্বলছে এবং রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হচ্ছে’ এমন কথা তিনি জানিয়েছন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বাংলাদেশ সফরের এক দিন পর গতকাল বুধবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে।

এ সময় আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমারের বিচারের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবিলম্বে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারে মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াংহি লিকে মিয়ানমারের পরিস্থিতি তদন্তের সুযোগ দিতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানান।

যেইদ রা’আদ আল হুসেইন বলেন, বাংলাদেশে নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জাতিসংঘ মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, হত্যাকাণ্ডসহ অব্যাহত সহিংসতা, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বর্ণনা দিয়েছে। গত মে মাসের শেষ দিকে আসা একজন রোহিঙ্গা নারী বলেছেন, রাখাইন রাজ্যের রাথিডং টাউনশিপে তাঁর গ্রামে দুটি ঘটনার পর তিনি এলাকা ছাড়েন। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে অব্যাহতভাবে আগুন দেওয়া হচ্ছিল। অন্যদিকে মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গা গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছে। বুথিডং থেকে পালিয়ে আসা আরেক রোহিঙ্গা বলেছেন, তাঁর পাশের গ্রামে রোহিঙ্গাদের ১০ থেকে ২০টি বাড়িতে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা আগুন দিয়েছে।

যেইদ রা’আদ আল হুসেইন জোর দিয়ে বলেন, মিয়ানমার যতই অস্বীকার করুক, এসব ঘটনা মুছে ফেলা যাবে না। রাখাইন রাজ্যে নিপীড়ন থেকে বাঁচতে লোকজন এখনো পালাচ্ছে।

কমেন্টস

কমেন্টস