এবার ‘খরচা বাঁচাও’ নীতিতে মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

নানা মন্তব্য ও কার্যকলাপে সব সময় আলোচনায় থাকেন পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এবার তিনি বলছেন, ফিশ ফ্রাই , চিকেন কাটলেট, ভেজ বা নন ভেজ সান্ডউইচ, কেক আর মিষ্টির দিন শেষ। পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জি সরকারের এখন ধ্যান জ্ঞ্যান –’খরচা বাঁচাও’

মমতা যদিও নিজে স্বল্পহারি এবং ভাজা ভুজি, মিষ্টি থেকে দূরে থাকেন—শুকনো মুড়ি , বা চিড়া খাওয়া পছন্দ করেন স্বাস্থ্য সচেতন মুখ্যমন্ত্রী –পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যেকোনো মিটিংয়ে ঢালাও  খাওয়া দাওয়ার আয়োজন থাকে।
মিটিংয়ের পরে সাংবাদিকদের  ডেকে ডেকে খাবারের প্যাকেট ধরানো হয় কারণ দিদি সবাই কে খাওয়াতে চান।
কিন্তু জুলাই ৫ তারিখ থেকে রাজ্য সরকার গ্রহণ করছে –’খরচ বাঁচাও’ নীতি , আর তাই মিটিংয়ের সাথে ইটিং মেন্যু একদম স্থির করে দেওয়া হয়েছে- চা, কফি এবং বিস্কুট।

সম্প্রতি একটি নির্দেশিকা জারি করে সব দফতরের অধিকর্তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে বড় বড় ফাইভ স্টার হোটেলে সরকারের মিটিং করা যাবে না।সরকারি অতিথিদের দামি কোন উপহার, এমন কি ফুলের তোড়া দেওয়ার ক্ষেত্রেও খরচা কমানোর কথা বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারি আমলাদের যখন তখন দেশে বা বিদেশে বিমান যাত্রার উপরেও আরোপ করা হয়েছে বিধি নিষেধ।

কিন্তু সরকারি মহলে অনেকেই আলোচনা করছেন খাওয়া দাওয়ার ওপরে সত্যি কি বিধি নিষেধ পালন করা হবে,কারণ দিদি সবাইকে খাওয়াতে ভালোবাসেন।

প্রতি মাসে মমতা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ঘুরে ঘুরে মিটিং করেন এবং সেই মিটিংয়ে অফিসাররা ছাড়াও সব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ডাকা হয়। সেই সব মিটিংয়ে অনেক বেশিই খাওয়ানো হয় সবাইকে। কি থাকে না সেই মেন্যু তে? কয়েক রকমের মাছ, মাংস, পোলাও , পোস্ত, চাটনি, দই এবং মিষ্টি।

নিজে না খেলেও , দিদি খবর নেন, সবাই ঠিক করে খেয়েছে তো? সরকারের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে দাওয়াত দেয়া হয় এবং সেখানেও দিদি সবার খাওয়া-দাওয়ার উপর নজর রাখেন। বিরোধী  দলের লোকজন দেখা করতে এলেও , উনি তাদের ভাল-মন্দ না খাইয়ে ছাড়েন না।

‘কিন্তু এখন উনি চাইছেন খরচ বাঁচাতে… তাই চা, কফি আর বিস্কুটে’ জানিয়েছেন সরকারি এক কর্মকর্তা।
জুলাই ৫ তারিখে খরচ কিভাবে কমানো যায়,তা নিয়ে মিটিং এর আয়োজন করা হয়েছে , তাতেও চা, কফি বিস্কুট ছাড়া কিছু খাওয়ানো হবে না। তারপর যে মন্ত্রীসভা মিটিং আছে সেখানেও একি মেন্যু।

খরচ বাঁচানোর এই হিরিক কেন?
‘সরকারের অনেক ধার… প্রতি বছর ধার শোধ করতে , ৪৬০০০হাজার কোটি রুপি চলে যাচ্ছে , তাই দিদি বলছেন  খরচ বাঁচাও’  বলেছেন এক সরকারি আমলা।

তাছাড়া আরেকটি কারণ আছে,সরকারি অনুষ্ঠানে এত ঢালাও খাওয়া দাওয়ার গল্প ছড়িয়ে পড়া মা-মাটি –মানুষ সরকারের ইমেজ এর জন্য কোনওভাবেই ভালো নয়। সামনের বছর লোকসভা নির্বাচন।

কমেন্টস

কমেন্টস