বিশ্বের সামরিক ক্ষমতাধর রাষ্ট্র হতে চলেছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ 

সারা বিশ্বে ইসলামী রাষ্ট্রভিত্তিক দেশগুলোর মধ্যে সামরিক দিক দিয়ে বর্তমানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান ১৩তম এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে এই দেশটির অবস্থান তৃতীয়তম। যার ফলে ইরানের ট্রেন্ড বর্তমানে উর্ধ্বমুখি।

অন্যদিক দিয়ে ইসরাইল ষোল, তুর্কীয়া নবম, মিশর বারো, পাকিস্তান সতের, সৌদি ছাব্বিশ ও ইন্দোনেশিয়া পনের তম স্থানে অবস্থান করছে। এদের অবস্থান উপরের দিকে থাকলেও বর্তমানে ট্রেন্ড নিম্নমুখী।

ইসরাইল, পাকিস্তান, সৌদি ও ইন্দোনেশিয়া ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পেছনে। আর মিশর ও তুর্কী ইসলামী ইরানের সামান্য উপরে থাকলেও এদের ট্রেন্ড লোয়ার আর ইরানের ট্রেন্ড আপার হওয়ার কারণে কিছুদিনের মধ্যেই ইসলামী ইরান এদেরকে টপকে যাবে।

মাত্র কিছুদিন আগেও ‘গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার রেঙ্কিং’ (Global Firepower Ranking) এ ইসলামী ইরানের অবস্থান বিশ এর পেছনে থাকলেও সম্প্রতি ইসলামী ইরানের ব্যপক উন্নতি ও বিস্ময়কর উত্থান ঘটায় অতি দ্রুতই ইসলামী ইরান ১৩তম অবস্থানে চলে আসে, এবং প্রতি বছরই তার অবস্থান ক্রমেই উপরের দিকে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের সামরিক শক্তিবৃদ্ধির খতিয়ান বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ইসলামী ইরান বিশ্বের সেরা পাঁচে চলে আসবে।

উল্লেখ্য যে, ইরানের সুযোগ্য ও দূরদর্শী সৎ নেতৃত্ব, সামরিক বাহিনীর ঐক্য, নেতৃত্বের প্রতি সামরিক বাহিনী ও জনগণের আনুগত্য, নিজস্ব সমরাস্ত্র নির্মাণ সক্ষমতা, সামরিক বাহিনী ও জনগণের আধ্যাত্মিক এবং আদর্শিক অনুপ্রেরণা, প্রভৃতি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই রেঙ্কিং এ বিবেচনা করা হয়নি। এসব বিষয়গুলো বিবেচনা করলে বর্তমানেই ইরানের অবস্থান প্রথম সাতে চলে আসত।

কয়েকটি লক্ষণীয় বিষয়:

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, ভার্সেটাইল সেফ লঞ্চিং ফ্যাসিলিটি ও ইনভেন্টরির দিক থেকে ইসলামী ইরান বিশ্বের চতুর্থ মিসাইল শক্তি। আমেরিকা, রাশিয়া ও চীনের পরই ইরানের অবস্থান। এই বিষয়ে তুর্কী কিংবা সৌদির অবস্থান অনেক নীচে।

নেভাল পাওয়ারে গোটা বিশ্বে ইসলামী ইরানের অবস্থান চতুর্থ। মোট ৩৯৮ টি নেভাল এসেটের অধিকারী ইরান। যেখানে পাকিস্তান মাত্র ১৯৭ টি, তুর্কীয়া মাত্র ১৯৪ টি, ইসরাইল মাত্র ৬৫ টি ও সৌদি আরব মাত্র ৫৫ টি নেভাল এসেটের অধিকারী।

সাবমেরিনের দিক থেকে ইসলামী ইরান পঞ্চম স্থানে রয়েছে। তুর্কী, সৌদি আরব, পাকিস্তান, মিশর, ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান এক্ষেত্রে ইরানের বেশ পেছনে।

কমব্যাট ট্যাংক পাওয়ারে ইসলামী ইরানের অবস্থান গোটা বিশ্বে পনেরো তম। সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া এক্ষেত্রে ইরানের বেশ পেছনে অবস্থান করছে।

আর্টিলারী রকেট প্রোজেক্টর স্ট্রেন্থ বা মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (MLRS) এ ইসলামী ইরান বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। তুর্কী, সৌদী আরব, মিশর, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও ইসরাইল এক্ষেত্রে ইসলামী ইরানের ধারের কাছেও নেই। ইসলামী ইরান ১৫৩৩ টি MLRS এর অধিকারী। আর মিশর ১২১৬ টি, তুর্কীয়া ৪১৮ টি, সৌদী আরব ৩২২ টি, ইন্দোনেশিয়া ১৫৩ টি, ইসরাইল ১৪৮ টি ও পাকিস্তান ১৪৪ টি MLRS এর অধিকারী।

তেল রিজার্ভে ইসলামী ইরানের অবস্থান গোটা বিশ্বে চতুর্থ এবং তেল উৎপাদনে অবস্থান গোটা বিশ্বে পঞ্চম। দীর্ঘমেয়াদী ও সর্বাত্মক যুদ্ধ জেতার জন্য নিজস্ব জ্বালানী থাকা বাঞ্ছনীয়। এই দিকে তুর্কী, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার তেমন কোন অবস্থান নেই বললেই চলে।

ইসলামী ইরানের বৈদেশিক ঋণের পরিমান খুবই কম। মাত্র ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ আছে ইরানের। যেখানে তুর্কীর ঋণ হচ্ছে প্রায় ৪৫৩ বিলিয়ন ডলার, ইন্দোনেশিয়া ৩২২ বিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ার ২১৩ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরবের ২১২ বিলিয়ন ডলার, ইসরাইলের ৯৩ বিলিয়ন ডলার, মিশরের ৭৬ বিলিয়ন ডলার ও পাকিস্তানের ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

বিশাল বৈদেশিক ঋণের বোঝা যুদ্ধ করার ক্ষমতাকে সংকীর্ণ করে দেয়। তাই অত্যন্ত কম বৈদেশিক ঋণ থাকার কারণে ইসলামী ইরানের যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুন।

পারচেজ পাওয়ার প্যারিটিতে ইসলামী ইরানের অবস্থান বিশ্বে আঠারোতম। প্রায় ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্রয় সক্ষমতা রয়েছে ইরানের। এক্ষেত্রে সৌদি আরব (পনেরোতম) ও তুর্কী (তেরোতম) ইসলামী ইরানের চেয়ে সামান্য এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু ইরানের এই সক্ষমতা দিনদিন খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সার্ভিসেবল এয়ারপোর্ট যুদ্ধ ও সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্টর। ইসলামী ইরানে মোট সার্ভিসেবল এয়ারপোর্ট রয়েছে ৩১৯ টি। যেখানে তুর্কীর রয়েছে মাত্র ৯৮ টি সার্ভিসেবল এয়ারপোর্ট।

মার্চেন্ট নৌ শক্তিমত্তা বাণিজ্য ও যুদ্ধ সক্ষমতার দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। ৭৩৯ টি নৌ এসেট নিয়ে এই দিকে ইরানের অবস্থান অনেক শক্তিশালী। এক্ষেত্রে মিশর ৩৯৯ টি, সৌদি আরব ৩৫৭ টি, পাকিস্তান ৫২ টি নৌ এসেট নিয়ে ইরানের অনেক পেছনে অবস্থান করছে।

যুদ্ধক্ষম একটিভ সৈন্য সংখ্যার দিক দিয়ে ইসলামী ইরানের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। তুর্কী, সৌদী আরব, মিশর, ইন্দোনেশিয়া এই বিষয়ে ইরানের বেশ পেছনে অবস্থান করছে।

রিজার্ভ সৈন্য সংখ্যার দিক দিয়ে ইসলামী ইরানের অবস্থান বিশ্বে ষোলতম। তুরষ্ক, সৌদী আরব, পাকিস্তান এই বিষয়ে ইরানের বেশ পেছনে।

যুদ্ধ উপযোগী জনবলের দিক দিয়েও ইসলামী ইরানের অবস্থান বিশ্বে ১৩তম। যেখানে সৌদি আরবের অবস্থান হচ্ছে ৩৯তম।

ফরেন কারেন্সি ও গোল্ড রিজার্ভের দিক থেকে ইসলামী ইরানের অবস্থান বিশ্বে উনিশতম। ইন্দোনেশিয়া, ইসরাইল, তুর্কী, মালয়েশিয়া, মিশর ও পাকিস্তানের অবস্থান এক্ষেত্রে ইরানের বেশ পেছনে।

নিজস্ব প্রযুক্তিতে নিজেরাই নিজেদের সকল ফাইটার ও এটাক জেট তৈরি করে ইরান। বিদেশী তেমন কোন জেট তাঁরা ক্রয় করেনা, বিশেষ করে পশ্চিমাদের থেকে একদমই জেট ক্রয় করেনা তাঁরা। তাই এয়ার পাওয়ারে ইসলামী ইরানের অবস্থান একটু পেছনে হলেও তা উর্ধ্বগামী। সম্প্রতি নিজেরা বেশ কিছু অত্যাধুনিক জেট ফাইটার বানিয়েছে ইরানিরা। এগুলো মাস প্রোডিউসের পর সার্ভিসে চলে আসলেই এয়ার পাওয়ারেও ইসলামী ইরানের অবস্থান অনেক উপরে চলে আসবে। উল্লেখ্য যে এয়ার পাওয়ারে ইসরাইল, তুর্কী, সৌদি, মিশর, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান নিম্নগামী।

কমেন্টস

কমেন্টস