আসিফার আইনজীবীও ধর্ষণের হুমকি পেল  

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

কাশ্মিরের ৮ বছর বয়সী শিশু আসিফার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আইনজীবি দীপিকা এস রাজাওয়াতকেও ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দিল দুষ্কৃতিকারীরা।

একই দিন ভারতের সর্বোচ্চ আদালতে নিজেদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে মামলা স্থানান্তরের আবেদন জানায় আসিফার বাবা। আগের দিন এই মামলার আইনজীবী দীপিকা এস রাজাওয়াত। রবিবার এনডিটিভির কাছে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলেছেন এই মামলায় আসিফার পরিবারের অপর আইনজীবী তালিব হুসেইনও। সোমবার আসিফার পরিবাবের পাশাপাশি তাদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত এই মামলার অভিযোগ প্রমাণে রাজ্য পুলিশের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসিফার বাবা। তবে অভিযুক্তদের নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে করা সিবিআইয়ের নারকো পরীক্ষার আবেদনের বিরোধিতা করেন।

পরর্বতীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জম্মু ও কাশ্মিরের প্রাদেশিক সরকারকে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার ৮ বছর বয়সী শিশু আসিফার পরিবার ও তাদের আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার আসিফার বাবা নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে মামলাটি কাশ্মির আদালত থেকে সরিয়ে চন্দ্রিগড় আদালতে স্থানান্তরে আবেদন জানালে আদালত এসব আদেশ দেয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে মামলা স্থানান্তরে প্রাদেশিক সরকারের মতামত চেয়েছে আদালত।

এ বছরের মধ্য জানুয়ারিতে কাশ্মিরের কাঠুয়ার উপত্যকায় ঘোড়া চড়ানোর সময় অপহৃত হয় আসিফা। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযোগপত্র জনসম্মুখে আনা হলে  বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে সারা ভারত। আদালতে দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই শিশুকে অপহরণের জন্য অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও দেবীস্থান মন্দিদের হেফাজতকারী সানজি রাম তার ভাগ্নে ও একজন পুলিশ সদস্যকে নির্দেশ দেয়। নির্দেশ বাস্তবায়নের পর সাত দিন ধরে মন্দিরে আটকে রেখে একদল হিন্দু পুরুষ ধর্ষণ করে আসিফাকে। পরে মাথায় পাথর মেরে ও গলা টিপে হত্যা করা হয় তাকে। আসিফাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটজনকে অভিযুক্ত করেছে ভারতের আদালত। সোমবার থেকে কাশ্মিরের কাঠুয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এসব অপরাধীর বিচার কাজ শুরু হয়েছে।

কমেন্টস

কমেন্টস