তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের উস্কানিতে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ 

সিরিয়া ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার মিত্রদেশে হামলা চালালে রাশিয়া সরাসরি আমেরিকায় হামলা চালাবে বলে হুমকিও দিয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চবাক্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরক্তিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও তার মিত্রদেশ যৌথভাবে নীল নকশা আঁকছে। যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রবাহিনী নিয়ে সিরিয়া হামলার হুমকিও দিয়েছে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গোপন রেড লাইন আঁকছেন বলেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জানিয়েছেন মার্কিন দূত নিকি হ্যালি।

রাশিয়ার সংস্থার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, পুতিন-ঘনিষ্ঠদের ওপর ট্রাম্পের বিধিনিষেধ, আর গুপ্তচর ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের পাশে দাঁড়ানোয় আগেই চটেছিল রাশিয়া। এ অবস্থায় সিরিয়ার ওপর মার্কিন বিমান হামলায় সম্ভবত সহ্যের বাঁধ ভেঙেছে রাশিয়ার।

সূত্রের খবর, যুক্তরাষ্ট্রকে শিক্ষা দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন পুতিন। যা উস্কে দিচ্ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা। রাশিয়ার সরকারি টেলিভিশন সূত্র মতে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য দেশের নাগরিকদের তৈরি থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

অন্যদিকে আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্সের বক্তব্য, সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ আছে বাসার আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে। তার ভিত্তিতেই সিরিয়ায় হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু রাশিয়ার বন্ধু দেশ সিরিয়া। রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের অভিযোগ মানতে নারাজ মস্কো। সিরিয়ায় হামলা ইস্যুতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ব্রিটেন, আমেরিকা এবং ফ্রান্সের আগ্রাসনের জন্য নিন্দা প্রস্তাব এনেছে।

কিন্তু চীন আর বলিভিয়া ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের আর কোনও সদস্য রাষ্ট্র রাশিয়ার প্রস্তাব সমর্থন করেনি। নাকচ হয়ে যায় রুশ প্রস্তাব। এদিকে রাশিয়ার তর্জন-গর্জনকে আমল দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। সিরিয়াকে সতর্ক করে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করলে তার মূল্য চোকাতেই হবে।

একই সুর জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মর্কেলের গলায়। তিনি বলেছেন, সিরিয়াকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ দরকার ছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, সিরিয়ায় বিমান হামলায় আমেরিকার প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন আছে।

কমেন্টস

কমেন্টস