রমজানে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

পবিত্র রমজান মাহাত্ম্যপূর্ণ মাসের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। সংযমের এ মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা, নামাজ, ছদকা, ফিতরা, জাকাত, দান-খয়রাতের মাধ্যমে আরও বেশি ইবাদত-বন্দিগিতে মনোনিবেশ করে থাকেন। ইবাদতের জন্য শারীরিক শক্তি-সামর্থ্য প্রয়োজন, তাই প্রয়োজনমতো হালাল খাদ্য গ্রহণ করতে হয়; ভারসাম্যপূর্ণ পুষ্টিকর খাবারের বিষয়টিও লক্ষ রাখতে হবে; যাতে ইবাদতের অসুবিধা না হয়।

অনেকে মনে করেন রমজানে আমরা যতখুশি খাওয়া-দাওয়া করব, এতে দোষের কিছু নেই। এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা। কারণ, খাদ্য এমন একটি বিষয় যা সব সময় একইভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বেশি করে কার্বোহাইড্রেট (ভাত, রুটি, আলু) বা চিনি-মিষ্টি খেলে আপনার ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হবে এবং ওজন বাড়বে। বেশি তেল-চর্বি জাতীয় খাদ্য গ্রহণেও আপনার ওজন বাড়বে এবং রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়বে—এটাও অবধারিত। তাই রমজান মাসে সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অত্যধিক চিনিযুক্ত খাবার ও অতিমাত্রায় তেল-চর্বি  জাতীয় খাবার বর্জন করতে হবে।

রমজানে কোষ্ঠকাঠিন্যঃ 

রমজান মাসে অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের অভিযোগ করেন। মূলত অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, গোশতজাতীয় খাবার বেশি খাওয়া, পানি কম খাওয়া কিংবা আঁশজাতীয় খাবার কম খাওয়ার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। এ জন্য খাবারে তরিতরকারি বেশি খাওয়া, ফলফলাদি খাওয়া, সালাদ খাওয়া, বেশি বেশি পানি পান করা হলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।

রমজানে পেপটিক আলসারঃ

যাদের পেপটিক আলসার রয়েছে তারা অনেকেই রোজা রাখতে ভয় পান। তারা মনে করেন খালি পেটে থাকলে তাদের এসিডিটির মাত্রা বাড়বে। বাস্তবে তা নয়। আসলে রোজা রাখলে সাধারণত এসিডিটি বাড়ে না। এ ধরনের রোগীদের প্রধান কাজ হলো নিয়মিত খাবার খাওয়া, নিয়মিত ঘুমানো ও নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ। বরং রোজায় মানুষ একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলে বলে এ সময় এসিডিটির মাত্রা অনেকাংশে কমে আসে। পেপটিক আলসারের রোগীরা কোনোভাবেই ভাজাপোড়া খাবেন না।

গর্ভাবস্থায় রোজাঃ

অনেকেই গর্ভাবস্থায় রোজা রাখেন। আবার কেউ বা রোজা ছেড়ে দেন। তবে গর্ভবতী মায়ের যদি শারীরিক কোনো জটিলতা না থাকে তাহলে তার রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই। বিশেষ করে প্রথম কয়েক মাস সহজেই রোজা রাখা যায়। অনেকে গর্ভের প্রথম তিন মাস বমিভাব বা বমির কারণে রোজা থেকে বিরত থাকেন। এ জন্য চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ মাসে রোজা রাখতে অনেকের সুবিধা হয়।

রমজানে স্বাস্থ্যকর ইফতার ও সেহেরিঃ 

ইফতারে আমরা হরেকরকম ভাজাপোড়া খেতে থাকি, যা রসনা তৃপ্তিকর বটে, কিন্তু পেটের জন্য ক্ষতিকর। রাসূলুল্লাহ সা: ইফতার করতেন টাটকা খেজুর দিয়ে। যদি তিনি পাকা খেজুর না পেতেন, তাহলে শুকনো কয়েকটি খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি শুকনো খেজুর না হতো, তাহলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন। আমাদের দেশে আমরা সাধারণভাবে চিঁড়ার শরবত বানাতে পারি। চিঁড়া ভিজিয়ে মথে নিয়ে মধু অথবা কলা সহযোগে এ শরবত তৈরি করা যায়। তবে রঙিন পানীয় দ্বারা ইফতার করা ক্ষতিকর।

সেহরি খাওয়ার সময়ও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার না খাওয়া হয়। মাছ, তরকারি, দুধভাত অথবা মুরগির গোশত এ সময় বেশ উপযোগী। সাথে ফলফলাদি থাকলে আরো ভালো।

রোজাদার ব্যক্তিরা ভারী ব্যায়াম না করে হালকা ব্যায়াম ও মেডিটেশন এবং ইয়োগা করবেন। হাঁটাহাঁটি ও হালকা ব্যায়াম করার সময়, যদি মাথা হালকা বোধ করা বা মাথা ঘোরার উপক্রম হয়, তবে অবশ্যই হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়ামের গতি কমিয়ে দেবেন অথবা বন্ধ করে দেবেন।

কমেন্টস

কমেন্টস