বিশ্বকাপে ৮৮ বছরের কোচদের ইতিহাস নিয়তি নির্ধারিত

স্পোর্টস ডেস্কঃ

ফুটবল ইতিহাসে ১৯৯৩০ থেকে ২০১৪- সালের আগে অনুষ্ঠিত ২০’টি বিশ্বকাপ আসরে যারাই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন ক০অরে। তাঁদের সবাই নিজেদের দেশের কোচের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিলো। তাই এবার রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্স এবং ক্রোশিয়ার মধ্যে যারা চ্যাম্পিয়ন হবে সেই দেশও নিজের দেশের কোচের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ইতিহাস অক্ষুন্য রাখবে।

বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৫চার চ্যাম্পিয়ন হওয়া ব্রাজিল তো কখনো বিদেশি কোচের হাতে জাতীয় দলের দায়িত্বই তুলে দেয়নি এটা তাদের ঐতিহ্য। বিদেশি কোচরা কেন বিশ্বকাপ জিততে পারেন না- বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের এমন প্রশ্ন ছিল ব্রাজিলের দুটি বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা কার্লোস আলবার্তো পেরেইরার কাছে।

প্রশ্নের উত্তর দেয়ার শুরুতে নিজ দেশের উদাহরণ টেনেছেন ৭৫ বছর বয়সী পেরেইরা। আমরা সব সময় নিজেদের কোচ নিয়ে থাকি। এর কারণ কোচের সঙ্গে খেলোয়াড়দের ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্য, আবেগ- সবকিছুরই একটা বিষয় থাকে। আমরা তাই জাতীয় দলের জন্য নিজেদের দেশের কোচই পছন্দ করি। আবার কোচের যোগ্যতা ও সামর্থ্যরে বিষয়টিও দেখতে হবে -বলেছেন পেরেইরা।

পেরেইরার সংবাদ সম্মেলন অবশ্য ব্রাজিল দল নিয়ে ছিল না। বিশ্বকাপের ৬২টি ম্যাচ শেষ। আরি বাকি ২ ম্যাচ কেমন হলো এই বিশ্বকাপের খেলা এসব নিয়ে টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেছে মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে। ওই টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের প্রধান ব্রাজিলের আলবার্তো পেরেইরা।

গ্রুপের বাকি নামগুলোও জেনে নিন- সাবেক ডাচ সুপারস্টার মার্কো ফন বাস্তেন, বিশ্বকাপে ৫টি দেশের ডাগআউটে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কোচ সার্বিয়ার বোলা মিলুনিতোভিচ, নাইজেরিয়ার সাবেক উইঙ্গার এমানুয়েল আমুনিকে ও সাবেক স্কটিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্ডি রক্সবার্গ।

বিশ্বকাপে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স, খেলার পরিবর্তন, উন্নতি, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপের সদস্যরা। আলবার্তো পেরেইরা বলেছেন, মাঠ ও মাঠের বাইরে ফুটবলের অনেক কিছ বদলাচ্ছে। তবে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, সব কিছুর উর্ধ্বে মেধা। যে দলে মেধাবী ফুটবলার বেশি, তারাই কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হয় শেষ পর্যন্ত।

নিজ দেশের প্রসঙ্গ টেনে পেরেইরা বলেছেন আমাদের ১৯৭০ সালের দলে পেলেসহ কয়েকজন মেধাবী ফুটবলার ছিলেন। আবার ২০০৬ সালে বেশ কিছু মেধাবী ছিলেন আমাদের  কিন্তু আগের আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তাদের মধ্যে শিরোপার ক্ষুধা তেমন ছিল না। এবারের দলটিও ভালো ছিল কিন্তু বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা অনেকেরই ছিল না। তার মানে মেধার সঙ্গে অভিজ্ঞতারও একটা বিষয় থাকে।

বোলা মিলুনিতোভিচের কথাও ছিল পেরেইরার মতো। তিনি শুধু যোগ করেছেন মেধা ও প্যাশনের সঙ্গে স্পিরিটও গুরুত্বপূর্ণ। এখন ফুটবলে জেতার জন্য এই স্পিরিটও থাকতে হবে।

ভিডিও অ্যাসিট্যান্ট রেফারি সম্পর্কে মার্কো ফন বাস্তেন বলেছেন, ‘এ নিয়মের কারণে বক্সে ফাউলের প্রবণতা আগের চেয়ে কমেছে, কমেছে ফুটবলাদের ফাউলের শিকার হওয়ার ভান করার প্রবণতাও।

এমানুয়েল আমুনি বিশ্বকাপে আফ্রিকার পারফরম্যান্সে হাতাশা প্রকাশ করে বলেছেন আমাদের আরো বেশি প্রত্যাশা ছিল আফ্রিকার দলগুলোর কাছে। আসলে ফুটবলে অনেক উন্নয়ন প্রয়োজন এবং সেটা থাকতে হবে ধারাবাহিকভাবে। ইয়ুথ ডেভেলপমেন্টে নজর না দিলে ফুটবলের উন্নয়ন সম্ভব না।

কমেন্টস

কমেন্টস