ফরিদপুরের মেয়ে পাওলি দাম, জয়ার বাড়ি গোপালগঞ্জ!

বিনোদন ডেস্কঃ

বলিউড ও টালিগঞ্জের অভিনেত্রী পাওলি দাম। ঢালিউডে কাজ করতেও বেশ সাচ্ছন্দ বোধ করেন তিনি। অন্যদিকে ঢালিউড এবং টালিগঞ্জের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। বর্তমানে দু’জন নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। এই দুই অভিনেত্রীর আলাদা জগতে থাকলেও তাদের দেশের বাড়ি প্রায় একজায়গায়। পাওলি দামের বাড়ি ফরিদপুরে এবং গোপালগঞ্জে জয়ার বাড়ি।

পাওলি দাম কালের বলেন, ‘আমি ফরিদপুরের মেয়ে,আমার দাদুকে দেশভাগের সময় এখানে চলে আসতে হয়েছিল সবকিছু ছেড়ে। আমি শুনেছি, সেটা খুব কষ্টের ছিল ওনার জন্য । আমার নাড়ির টান আছে বাংলাদেশের সাথে।’

তিনি আর বলেন, ‘বাংলাদেশে শুটিং করতে আমার অনেক ভাল লাগে কারণ সেখানকার আতিথেয়তা আমাকে মুগ্ধ করে, আর সেখানকার খাওয়া- দাওয়া অসাধারন। পৃথিবীর বেস্ট ইলিশ আমি ওখানে গেলে খেতে পারি।’

অন্যদিকে বেশ কিছুদিন ধরে ভুল তথ্য প্রচার নিয়ে বেশি ভাবাচ্ছে অভিনেত্রী জয়া আহসানকে। বয়সের সাথে জয়ার পারিবারিক তথ্যও নিয়েও ভুলভাবে গণমাধ্যমে উপস্থাপিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তাই গণমাধ্যমে তার বয়স নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার না করার জন্য সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়েছেন জয়া। এ নিয়ে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন তিনি।

জয়া আহসান ফেসবুক স্ট্যাটাসে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো ,

‘বিরসা দাশগুপ্তের ‘ক্রিসক্রস’ চলচ্চিত্রের টিজার ও গান মুক্তি পেল। অপ্রত্যাশিত সাড়া পেয়েছি আমরা। ভালো হোক কিংবা মন্দ-আমার অভিনীত চলচ্চিত্র কিংবা আমার কাজ নিয়ে বেশিরভাগ চলচ্চিত্র দর্শকই গুরুত্বের সঙ্গে মতামত দেন। কখনো আমার কাজ আমার ভক্তদের গর্ব বাড়িয়ে দেয়, কখনো আমি তাদের হতাশ করি।

তবে যারা আমার কাজ অপছন্দ করেন কিংবা যারা আমাকে অপছন্দ করেন,তাদের আমি অপছন্দ করি না। বরং তাদের ব্যপারে আমি আরো অনেক বেশি যত্নশীল। গঠনমূলক সমালোচনাই তো একজন শিল্পীকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। আমি আমার অভিনয় জীবনে বরাবরই সমালোচকদের দেখানো পথে চলবার চেষ্টা করেছি। তবে শুধুমাত্র ‘বলার জন্য বলা’ নেতিবাচক মন্তব্য কখনো আমার ভেতর প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে আমি নির্ভার।

তবে ইদানিং ২/১ টি বিষয় আমাকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ইদানিং বেশ কয়েকজন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা/ উইকিপিডিয়ার তথ্যসূত্র টেনে আমার বয়স নিয়েও বেশ চর্চা করছেন। বলা হচ্ছে,আমার বয়স না কি ৪৬ ! গুজব-গুঞ্জন আমি বরাবরই খাবারের লবণের মত উপভোগ করে গিয়েছি। দু-একজন সমবয়সী কিংবা আমার চেয়ে বয়সে বড় শ্রদ্ধাভাজন সহকর্মী (বিশেষ করে বেশ কয়েকজন অভিনেত্রী) গণমাধ্যমে নিজেদের অধিকার মনে করে আমার বয়স (ভুল তথ্য) নিয়ে চর্চা করেছে-বিষয়টি মজার। তাই এতদিন উপভোগ করেই গিয়েছি। তবে খুব সম্ভবত আমার চুপ থাকাটাকে অনেকে ‘মৌনতা সম্মতির লক্ষণ’ হিসেবে ধরে নিয়েছেন। নিন্দুকেরাও ‘অস্ত্র’ হিসেবে আমার বয়সের ভুল তথ্য প্রচার করে আনন্দ পাচ্ছেন।

এ ক্ষেত্রে আমি প্রথম ও শেষবারের মত সবার উদ্দেশ্যে বলতে চাই: বয়স নয়। একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় হওয়া উচিত তার কাজে। ৪৬ কিংবা ৫৬ কিংবা তার চেয়েও বেশি বয়স হলেই অভিনেত্রীরা কাজের অযোগ্য কিংবা তারুণ্যদীপ্ত চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন না-এমন ধারণা বিশ্বের কোনো চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিই পোষণ করেন না। তাই ব্যক্তি জয়া আহসানের যে বয়স,তা নিয়ে আমি এতটুকু বিচলিত নই। তবে ভুল তথ্য প্রচার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য সবার উদ্দেশ্যে অনুরোধ করছি। বিশেষ করে আমার কাজ যারা পছন্দ করেন,দায়িত্বশীল যেসব সাংবাদিক আমাকে নিয়ে দু কলম লিখবার মত যোগ্য মনে করেন,তারা ভবিষ্যতে বিষয়টি সংবেদনশীলভাবে দেখবেন বলেই আশা করছি।

কারণ প্রকৃত সত্য হলো, ৪৬ বছর আগে আমার বাবা-মা’র বিয়ে তো দূরের কথা, দেখাও হয়নি। এতদিন বিষয়টি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছি। তবে ইদানিং বিষয়টি মাত্রাতিরিক্ত আকার ধারণ করায় পরিবার ও কাছের বন্ধুদের অনুরোধে লিখতে বাধ্য হয়েছি। সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, একজন শিল্পীর জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরবার আগে নূন্যতম একবার তার সাথে কথা বলা উচিত। কারণ শুধু বয়স ভুলের তথ্যই নয়, বিভিন্ন মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, আমার আরো দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে (প্রকৃত তথ্য: আমরা দুই বোন ও এক ভাই)। বলা হয়, আমার বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় (প্রকৃত তথ্য: গোপালগঞ্জ)। শুধু তাই নয়, আমার বাবার নামও লেখা হয় আলী আহসান সিডনী (প্রকৃত তথ্য: অভিনেতা জিতু আহসানের বাবা প্রখ্যাত অভিনেতা সৈয়দ আলী আহসান সিডনী। আমার বাবা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এস মাসউদ)। রয়েছে আরো অনেক ভুল তথ্য। আশা করছি ভুল শুধরে ভবিষ্যতে আমরা প্রতিটি শিল্পী সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা করবো। কারণ ভক্তরা যেমন তার পছন্দের শিল্পী সম্পর্কে ভুল তথ্য কিংবা ভুল ব্যাখ্যা পড়তে পছন্দ করেন না, শিল্পীরাও প্রতি নিয়ত ভুল তথ্য দিয়ে ভক্তদের বিভ্রান্ত করতে চান না।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইদের কাছে বিনীত অনুরোধ, একজন অভিনেতার কাজ নিয়ে লিখবার সময় যদি তার বয়সের বিষয়টি না আসে, একজন অভিনেত্রীর ক্ষেত্রেও সে বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিকভাবে আসাটা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে কিন্তু আমাদের ভেবে দেখবার অবকাশ রয়েছে। সবার জন্য রইলো শুভ কামনা।’

দুইদিন আগে জয়ার নতুন ছবি ‘ক্রিসক্রস’-এর টিজার এবং একটি গান মুক্তি পেয়েছে। ছবিটিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া টলিউডে ইতিমধ্যে বেশ কিছু ছবিতে কাজ করেছেন জয়া। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে অর্ণব পাল পরিচালিত ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’, মাহমুদ দিদার পরিচালিত ‘বিউটি সার্কাস’, অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘দেবী’ ছাড়া আরো বেশ কিছু ছবি।

উল্লেখ্য, এবার একই সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন দুই বাংলার দুই তারকা শিল্পী জয়া আহসান ও পাওলি দাম। কোলকাতার আলোচিত নির্মাতা জুটি নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নতুন সিনেমার কাজ করবেন তারা। সিনেমার নাম ‘কণ্ঠ’। নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দু’জনের ছবিতে প্রথমবারের মতো অভিনয় করতে যাচ্ছেন জয়া। তবে এই খবরে আরো চমক হলো, জয়ার সঙ্গে এই সিনেমায় দেখা যাবে পাওলি দামকে। একজন ক্যানসার আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে ছবিটি। ছবির মূল চরিত্রে পরিচালক শিবপ্রসাদই অভিনয় করছেন। আর তার চরিত্রের থেরাপিস্টের ভূমিকায় অভিনয় করছেন জয়া।

কমেন্টস

কমেন্টস