গান ছিল, ব্যান্ড ছিল নাম ছিল না শিরোনামহীনের!

ছবিঃ নিঝু

আসছে ১৪ই এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ। আর সেই দিনটিতেই জন্ম হয়েছিল এক নামহীন ব্যান্ডের। যেই নামহীন ব্যান্ডদল আজকের ব্যান্ড পাগলদের ভালোবাসার ‘শিরোনামহীন’। যে নামটির এক উচ্চারণই আজ যথেষ্ট তাদের পরিচিতির স্বার্থে। ব্যান্ড পাগলদের ভালোবাসার ‘শিরোনামহীন’ ও তার পেছনের সব গল্পই আজ সবার জানা। তবু এর পেছনেও রয়ে গেছে অনেক অজানা কথা যা জানার আগ্রহ আছে সব ভক্তদেরই। 

আজ বাদে কালই শুরু হচ্ছে ‘শিরোনামহীন’ এর জন্মবার্ষিকী পালনের মাস এপ্রিল। তারই ধারাবাহিকতায় ডেইলি মিরর ২৪ এর মুখোমুখি হয়েছেন এই ব্যান্ড দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া। তার সাক্ষাৎকার ডেইলি মিরর ২৪ এর পাঠকদের কাছে ধারাবাহিকভাবে আমরা তুলে ধরব। যেখানে পাঠকরা জানবেন দেশের প্রতিষ্ঠিত এই ব্যান্ডের জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এর জানা অজানা নানা কথা। ডেইলি মিরর ২৪ চেষ্টা করেছে যা কিছু পাঠকরা জানেন তার পেছনের অজানা সব কিছুই পাঠকদের সামনে তুলে ধরতে। নামহীন ব্যান্ড থেকে শিরোনামহীন হয়ে ওঠা, চড়াই থেকে উতরাই সব শেষে ভোকাল তুহিনের সাথে শিরোনামহীনের ফাটল বাদ যায়নি কিছুই। থাকবে শিরোনামহীনের ভবিষ্যৎ যাত্রার কথাও।

চলুন তবে দেরি না করে জানি প্রথম ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনে কি বললেন শিরোনামহীনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া-

সাক্ষাতেঃ মহিউদ্দিন আল মাহি

ডেইলি মিরর ২৪: ৯৬ সাল ১৪ এপ্রিল টিএসসির সেইদিন সম্পর্কে কিছু বলেন?

জিয়া: আসলে ওই দিনটিতে আমরা শিরোনামহীনের জন্মদিন পালন করি। যদিও তার আগেই শিরোনামহীনের যাত্রা শুরু। প্রথমে আমি আর আমার বন্ধু জুয়েল এক সাথেই ব্যান্ডে বাজাতাম। আমি গীটার বাজানোর পাশাপাশি গান লিখতাম। কিন্তু কাকে দিয়ে গাওয়াবো তাঁকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না।

একদিন সন্ধান পাই ছায়ানটের বুলবুল ভাইয়ের। তার কাছে আমি আর জুয়েল গিয়ে ব্যান্ডের ভোকাল হওয়ার প্রস্তাব দেই। তাঁকে আমরা প্রস্তাবে বলি, “ভাই আমরা একটা ব্যান্ড বানাতে চাচ্ছি কিন্তু ভোকাল পাচ্ছিনা”। ভাই ভালো গাইত, আমাদের লিরিক্স দেখে বলল আচ্ছা আমি ভোকাল দিবো সমস্যা নাই। এরপর বুলবুল ভাইকে সাথে নিয়ে পাড়া মহল্লায় গান করে শুরু হয় আমাদের নামহীন ব্যান্ডের যাত্রা। তখন আমার ঢাকা ইউনিভার্সিটির এক বন্ধু পদাতিক নাট্য সম্প্রদায় নামে একটা নাট্য দলের সাথে নাটক করত, আর আমি বুয়েটের ছাত্র ছিলাম।

কিন্তু টিএসসিতে আড্ডা দেয়ায় আমার সাথে ওর পরিচয়। আর ক্যাফেটেরিয়ার ভিতরে বসে গান করতাম এভাবেই ওর সাথে বন্ধুত্ব হয়।

প্রতি পহেলা বৈশাখেই তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। আমার ওই বন্ধু আমাকে একদিন বলল তোরা তো ভালোই গান করিস, এইবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের প্রোগ্রামের শুরুটা তোদের ব্যান্ডের পারফর্মেন্স দিয়েই শুরু করব।

সেই সময় আমাদের মত একটা নামহীন ব্যান্ডের জন্য এই সুযোগটি ছিল জীবনের সব থেকে বড় পাওয়া। এই সুযোগটি পাওয়ার পর আমরা ভীষণ চিন্তিত ছিলাম। তারপরে নামহীন ব্যান্ড কিন্তু আমাদের গান শুনে সবাই যখন ব্যান্ডের নাম জানতে চাচ্ছিল ঠিক তখনই আমি ঠিক করি, শুরু যখন নামহীন ভাবে হয়েছে তখন ব্যান্ডের নাম হবে শিরোনামহীন। তাই ১৪ এপ্রিল শিরোনামহীনের জন্মদিন পালন করি আমরা।

ডেইলি মিরর ২৪: সাধারণত নতুন ব্যান্ডের নিজেদের লিরিক্স থাকেনা তাই বিখ্যাত দেশী বিদেশী শিল্পীদের গান কাভার করে ব্যান্ডগুলো। আপনারা কাদের গান বেশি কাভার করতেন?

জিয়া: আমরা এই যায়গাটাতেই সকল ব্যান্ডের থেকে আলাদা ছিলাম। আমরা গান কাভার করতে পছন্দ করতাম না। আমরা প্রথম যখন টিএসসি অডিটোরিয়ামে পারফর্মেন্স করতে যাই তার আগেই আমার লেখা শিরোনামহীনের জন্য ৫০টির মতো গান ছিল। যেটা বন্ধু সমাজ এবং মহল্লায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে যায়। তাই আমাদের গান কাভার খুব কমই করতে হয়েছে।

শীঘ্রই আসছে ২য় ধারাবাহিক…

কমেন্টস

কমেন্টস