মহানবী (সাঃ) এর জীবদ্দশায় নির্মিত মসজিদ বাংলাদেশে

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

বাংলাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে।এ হিসেবে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর জন্মের ৫০ বছর পরেই ইসলামের আবির্ভাব হয়েছিল। বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রামদাস গ্রামের মজেদের আড়া নামক জঙ্গলে ১৯৮৭ সালে আবিষ্কৃত  প্রাচীন একটি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ সূত্রেই এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল-জাজিরা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটি নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লালমনিরহাটে মসজিদটির যে ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে- এতে কালেমা তায়্যিবা ও ৬৯ হিজরি লেখা রয়েছে। ধারণা করা হয়, মহানবি হজরত মুহাম্মদ সা. জন্মগ্রহণের ৫০ বছর পরেই বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব হয়

এ বিষয়ে বিশিষ্ট ইসলামিক লেখক মতিউর রহমান বসনীয়া তার  ‘রংপুরে দীনী দাওয়াত’ বইয়ে এ মসজিদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে বলা হয়েছে- লালমনিরহাট জেলার এ প্রাচীন মসজিদ ও এর শিলালিপি দেখে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি যে, বখতিয়ার খিলজীর বাংলা বিজয়ের (১২০৪ খ্রি.) ৬০০ বছর আগেই বাংলা অঞ্চলে সাহাবিদের (রা.) দ্বারা ইসলামের আবির্ভাব হয়েছিল।

রংপুর জেলার ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, রাসূলের (সা.) মামা বিবি আমেনার চাচাতো ভাই আবু ওয়াক্কাস রা. ৬২০ থেকে ৬২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করেন । (পৃ. ১২৬)

অনুমান করা হয়, ৬৯০ খ্রিস্টাব্দের মসজিদটি আবু ওয়াক্কাস রা. নির্মাণ করেন। বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ও প্রাচীন এই মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণে ২১ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১০ ফুট। মসজিদের ভেতরের পুরুত্ব সাড়ে ৪ ফুট।

মসজিদের চার কোণে অষ্টকোণবিশিষ্ট স্তম্ভ রয়েছে। মসজিদের ধ্বংসাবশেষ থেকে পাওয়া যায় গম্বুজ ও মিনারের চূড়া। (রংপুর জেলার ইতিহাস, পৃ. ১৬৪)

কমেন্টস

কমেন্টস