গাফিলতিতে আবারো পেছালো এনআইডি কার্ড প্রেরণ

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

প্রায় কোটি নাগরিকের লেমিনেটেড এনআইডি মুদ্রণের কাজ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আবার কবে সেই কাজ শুরু হবে তারও কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেনা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ফলে এনআইডি না থাকা এই নাগরিকদের বিভিন্ন সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে সংসদ নির্বাচনের আগে কার্ড পাওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। 

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় কোটি নাগরিকের লেমিনেটেড এনআইডি মুদ্রণের কাজ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির মুদ্রিত কার্ড নিম্নমানের হওয়ায় এই কাজের চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনায় পরিপ্রেক্ষিতে জুনে এসেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোটি নাগরিককে লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র দিতে দ্বিতীয় দফায় ব্যর্থ হল সাংবিধানিক সংস্থাটি।

দীর্ঘদিন থেকে ঝুলে থাকার পর আবারো এনআইডি মুদ্রণের কাজ পিছিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, “মুদ্রণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানির মুদ্রিত কার্ড নিম্নমানের হওয়ায় তা গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে নতুনভাবে কার্ড মুদ্রণের পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছি আমরা। ”

আগামী পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যে মুদ্রণ সম্পন্ন করে বিতরণ কার্যক্রম নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা রাখেন তিনি। তবে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) আব্দুল বাতেন বলেন, নির্বাচনের কমিশনের ‘পুনরায় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার পর লেমিনেটেড এনআইডি নতুনভাবে মুদ্রণ করে বিতরণ করা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা বলেন, “দেরি তো হবেই, সেক্ষেত্রে কবে নাগাদ বিতরণ করা যাবে, তা এখন বলা যাচ্ছে না।”

২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর নাগরিকদের লেমিনেটেড এনআইডি কার্ড দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে নয় কোটি ভোটারের হাতে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার চুক্তি করে ইসি। এ স্মার্টকার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে। স্মার্টকার্ড বিতরণে শম্বুক গতিতে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা থেকে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে নিবন্ধিত এক কোটি ১৮ লাখের বেশি তরুণ নাগরিকের হাতে আপদকালীন লেমিনেটেড কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইসি।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) আব্দুল বাতেন জানান, ২০১২ সাল থেকে যেসব ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্র পাননি তাদেরও স্মার্টকার্ড দেওয়ার কথা ছিল। কয়েক বছর ধরে পর্যন্ত বিষয়টি ‘ঝুলে থাকার’ পর এক বছর আগে (২০১৭) গত জুনে কোটি নাগরিককে লেমিনেটেড এনআইডি দেওয়ার প্রস্তাব দেয় এনআইডি উইং। ৯৩ লাখ ভোটারকে লেমিনেটেড এনআইডি দিতে ৩১ অক্টোবর কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এরপর নিয়ম অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠান এই কাজের অনুমোদন পেতে আবেদন করে। এরমধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী কার্ডের মান রক্ষা করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

এই বিষয়ে এনআইডি উইংয়ের কর্মকর্তারা জানান, লেমিনেটিং কার্ড মুদ্রণের কাজে অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি দুই-তৃতীয়াংশ কার্ড মুদ্রণ করে, যা সাতটি জেলায় বিতরণের জন্য পাঠানো হয়। তবে কার্ডের মান নিয়ে মাঠ পর্যায় থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে এআইডি উইংয়ের কর্মকর্তারা। এই তদন্তে গঠিত চারটি বিশেষ কমিটি অন্তত আট ধরনের ত্রুটি শনাক্ত করে। এর মধ্যে রয়েছে- কার্ড মুদ্রণে রিফিল কালি ব্যবহার, কার্ড সঠিকভাবে না কাটা, লেমিনেটিংয়ের সময় মেশিনে সঠিকভাবে হিট না দেওয়া, একই পাউচে একাধিক কার্ড সংরক্ষণ করা, পাউচের ভেতরে বাঁকানো কার্ড ঢোকানো এবং এক জেলার বাক্সে অন্য জেলার কার্ড দেওয়া ইত্যাদি। তদন্ত শেষে ‘মুদ্রিত কার্ড মাঠ পর্যায়ে প্রেরণ করা সমীচীন হবে না’ এবং পাশাপাশি ’মুদ্রিত কার্ডগুলো পুনরায় মুদ্রণ করে বিতরণের ব্যবস্থা করাই শ্রেয়’ বলে মত দেয় কমিটি।

মানহীন কার্ড মুদ্রণে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, “এক্ষেত্রে কাজে অবহেলার জন্যে কয়েক কোটি টাকা গচ্চা যাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। নির্বাচন কমিশনের কোনো অর্থই অপচয় হচ্ছে না।”

কমেন্টস

কমেন্টস