স্কুলকেও দেওয়া হলো বাঁশ!

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

এবার রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে নির্মিত হলো চুনারুঘাট মুছিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা দেয়াল। শুধু তাই নয় ওই দেয়ালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেছে নিম্নমানের ইট ও শুরকি।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগের একজন সাইট অফিসার সার্বক্ষণিক কাজ তদারকি করার পরও কীভাবে এমন পুকুর চুরি হয়েছে কেউই এর হিসেব মেলাতে পারছেন না। স্থানীয় লোকজন নিম্নমানের কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ঠিকাদার স্থানীয়দের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ও চাঁদাবাজি মামলার ভয় দেখিয়ে লুটে নিয়ে গেছেন সরকারের ৯ লাখ টাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মিরাশি ইউনিয়নে মুছিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের জন্য চলতি অর্থ বছরে সরকার এডিপি প্রকল্পের আওতায় ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। দেয়াল নির্মাণের কাজটি করার অনুমোদন লাভ করে কেবি কনস্ট্রাকশন। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে কাজটি কিনে নেন মিরাশি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রমিজ আলীর ভাতিজা রিপন মিয়া। মাসখানেক আগে ওই বাউন্ডারি দেয়ালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রথম থেকেই রিপন ও এলজিইডি বিভাগের উপ সহাকরী প্রকৌশলী মর্তুজা আহম্মদ দেয়াল নির্মাণে অনিয়ম শুরু করেন। বিষয়টি এলাকাবাসীর নজরে এলে চুনারুঘাট সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি শফিউল আলম মানিক এ অনিয়মের প্রতিবাদ করেন কিন্তু তার কথার তোয়াক্কা না করেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ অব্যাহত রাখে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) বিষয়টি সরেজমিন দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু তাহের, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঈন উদ্দিন ইকবালসহ এলজিইডি বিভাগের কর্মকর্তারা।

তারা ঘটনাস্থলে এসে দেয়াল ভাঙার নির্দেশ দেন। দেয়ালের কিছু অংশ ভাঙার পর দেখা যায় এতে কোনো ধরনের রড ব্যবহার করা হয়নি। যে ইট শুরকি ব্যবহার হয়েছে তাও দুই নম্বর।

এ বিষয়ে এলজিইডি’র সহকারী ইঞ্জিনিয়ার আনিস আহম্মদ বলেন, ‘কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে তাই দেয়ালটি পুনরায় মেরামত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্নধার কাজল মিয়া বলেন, ‘প্রকল্পের ইস্টিমিটে রড দেয়া ছিলো কিন্তু ড্রইং এ রড দেয়ার কথা উল্লেখ ছিলো না বিধায় মিস্ত্রি রড দেয়নি।’ তবে তিনি রড দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।

 

 

কমেন্টস

কমেন্টস