পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

একটানা দুইদিনের প্রচন্ড বৃষ্টি ও একইসাথে পহাড়ি ঢলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় তুমব্রু খালের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোনারপাড়া শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের বেশিরভাগ এলাকা তলিয়ে গেছে। যার ফলশ্রুতিতে সেখানে অবস্থানরত  রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রায় ৬শ’ পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। এই পরিবারগুলো নিকটস্থ উঁচু পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিলেও তাদেরকে অভুক্ত অবস্থায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিনযাপন করতে হচ্ছে।

কোনারপাড়া শূন্যরেখা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, গত দুইদিন ধরে বৃষ্টি হলেও পানি ওঠেনি। বুধবার সকাল ১১টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে গোটা আশ্রয় শিবির কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। নিচু এলাকার ঘরবাড়ি একেবারে ডুবে যাওয়ায় সেখানে বসবাসরত প্রায় ৬শ’ পরিবার উঁচু পাহাড়ি এলাকায় সরে গেছে।

রোহিঙ্গা মাঝি (রোহিঙ্গাদের স্থানীয় নেতৃত্বকে মাঝি বলা হয়) শাহ আলম জানান, আশ্রয়হীন রোহিঙ্গারা কখন দু’মুঠো খেতে পারবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। রোহিঙ্গারা জানান, ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১ হাজার ২০ পরিবারের সাড়ে ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে পোহাতে হবে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। যেহেতু পেছনে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া এবং সামনে তুমব্রু খালের অথৈ পানি, তাই মাঝখানে অনিরাপদ অবস্থায় এই রোহিঙ্গাদের দিন কাটাতে হচ্ছে।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একে জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, মিয়ানমার থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে শূন্যরেখার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান তুমব্রু শূন্যরেখা আশ্রয় শিবিরের একাংশ তলিয়ে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আশ্রয়হীন রোহিঙ্গাদের খাবার ও সার্বিক সেবা প্রদানের জন্য রেডক্রিসেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

৩৪ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহম্মদ বলেন, সকাল থেকে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পানি বেড়ে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। এখন পানি একটু একটু করে নামতে শুরু করেছে।

কমেন্টস

কমেন্টস