পবিত্র ‘শবেবরাত’ আজ

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ 

আজ রাতে পালিত হবে সকল মুসলিম জাহানের ভাগ্য নির্ধারনের রাত ‘শবেবরাত’। শবেবরাতের আরবি লাইলাতুল বরাত। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এ রাতে রয়েছে পাপ মোচনের সুযোগ। নির্ধারিত হয় পরবর্তী বছরের হায়াত, রিজিক, আমল। আল্লাহর সান্নিধ্য ও ক্ষমালাভে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ-মাহফিল, নফল নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন শবেবরাতের রাতে; মৃত স্বজনদের কবর জিয়ারত করেন।

ফার্সি শব্দগুচ্ছ ‘শবেবরাতের’ বাংলা ভাগ্য রজনী। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতে পরবর্তী বছরের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। এ রাতকে মুসলিম উম্মাহ পালন করেন মহিমান্বিত ভাগ্য রজনী হিসেবে।

পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি  মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, এ মহিমান্বিত রজনী মানবজাতিকে আল্লাহতায়ালার বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমালাভের সুযোগ এনে দেয়। শবেবরাত সবার জন্য ক্ষমা, বরকত, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

শবেবরাত মুসলমানের কাছে রমজানের আগমনী বার্তা বয়ে আনে। রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে অনেকে আজ রোজা রাখবেন। সন্ধ্যায় প্রতিবেশীর বাড়িতে ইফতার বিতরণের রেওয়াজও রয়েছে। শবেবরাতে দুস্থদের মধ্যে ও প্রতিবেশীর বাড়িতে হালুয়া-রুটি বিতরণের প্রচলন রয়েছে। বিশেষত পুরান ঢাকায় রুটি-মাংস বিতরণের ধুম পড়ে শবেবরাতের সন্ধ্যায়।

শবেবরাত উপলক্ষে আজ বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ ওয়াজ মাহফিল ও জিকির-আজকার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছরের মতো এবারও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মসজিদে রাতে ওয়াজ মাহফিল, কোরআন তিলাওয়াত, হামদ, নাত, জিকির, মিলাদ, কিয়াম ও দোয়ার আয়োজন করেছে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর থেকে বিশিষ্ট আলেমরা রাতভর বয়ান করবেন। ফজরের নামাজের পর দোয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে ওয়াজ মাহফিল। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

শবেবরাত উপলক্ষে আগামীকাল বুধবার সরকারি ছুটি। সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না। তবে সংবাদপত্রগুলোতে আজ প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ নিবন্ধ। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

শবেবরাতের পবিত্রতা রক্ষায় রাজধানীতে বিস্ম্ফোরকদ্রব্য, আতশবাজি, পটকা ও অন্যান্য ক্ষতিকারক দ্রব্য বহন এবং ফাটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

কমেন্টস

কমেন্টস