হাতের পরে জীবন গেলো রাজীবের

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

দুই বাসের সংঘর্ষে হাত হারানো রাজীব হোসেনকে (২১) মারা গেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্ট রাখা হয়েছিল তাঁকে। গতকাল সোমবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে আইসিইউর চিকিৎসক রাজীবকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. রেজা বলেন,  আইসিইউর চিকিৎসকরা রাতে তাদের ডেকে নিয়ে জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা রাজীবের অবস্থা অবনতি হয়। তারপর বিষয়টি রাজীবের স্বজন্দের জানানো হয়। বহু চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচাতে পারলাম না আমরা। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে রাজীব মারা যায়।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়াও রাজীবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা মেডিকেল জরুরি বিভাগের চতুর্থতলায় আইসিইউর সামনে মধ্যরাতে রাজীবের স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় বলেও জানান তিনি।

গত ৩ এপ্রিল বিআরটিসির একটি দোতলা বাসে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন রাজধানীর মহাখালীর সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। ওই সময় তাঁর ডান হাতটি বাসের সামান্য বাইরে ছিল। ওই সময় হঠাৎই পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসের গা ঘেঁষে ওভারটেক করার সময় রাজীবের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পথচারীদের সহায়তায় তাঁকে দ্রুত শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় সাত দিন অচেতন অবস্থায় পড়ে থেকে একেবারে চলে গেলেন রাজীব।

তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় রাজীব মা আকলিমা খানমকে হারান। বাবা শোকে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েন। ছিলেন নিরুদ্দেশ। রাজীব ও তার ছোট দুই ভাই পটুয়াখালীর বাউফলে নানার বাড়িতে ছিলেন। পরে ঢাকায় এসে পোস্ট অফিস হাইস্কুলে ভর্তি হন। খালার বাড়ি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর রাজীব যাত্রাবাড়ীর মেসে গিয়ে ওঠেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে কম্পিউটার কম্পোজ, গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজ শিখছিলেন। ছাত্র পড়াতেন। দম ফেলার ফুরসত পাননি। লক্ষ্য ছিল একটাই, নিজের পায়ে দাঁড়ানো, ভাই দুটির দায়িত্ব নেওয়া।

এ ঘটনায় দুই বাসের চালককে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা কারাগারে রয়েছেন। রাজীবের হাত হারানোর ঘটনায় হাইকোর্ট দুই বাসের মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

কমেন্টস

কমেন্টস