প্রশ্নফাঁস নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণে রয়েছে সীমাবদ্ধতা

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর জন্যও যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু তা সত্বেও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন পাইয়ে দেওয়ার প্রচারণা চালিয়েই যাচ্ছে ফাঁসচক্র। এমনকি  ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার আগে প্রশ্ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে।

প্রশ্ন ফাঁস এড়ানোর পদ্ধতি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, পরীক্ষায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ থাকবে না।  পরীক্ষা শুরুর মাত্র ২৫ মিনিট আগে সেটকোড জানিয়ে দেওয়া হবে। এ জন্য এমসিকিউ পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে আনা হয়েছে। পরীক্ষার দিন সকালে কলেজগুলোকে ট্রেজারি থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করতে হবে। আর ট্রেজারির নিকটবর্তী কলেজগুলোতে মাত্র আধঘণ্টা বা ১ ঘণ্টা আগে প্রশ্ন সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর পরীক্ষা চলাকালীন সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে থাকবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ।

আবার এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলম সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করার বিষয়ে বিটিআরসির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফেসবুক মনিটরিং করার যন্ত্রও আমাদের নেই। রাজনৈতিক বিবেচনায় পরীক্ষার কেন্দ্র বরাদ্দ দেওয়া, সন্তানকে অনৈতিক সুবিধা দিতে অভিভাবকদের ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পাইয়ে দেওয়াসহ প্রশ্ন ফাঁসের জন্য নানা কারণকে তিনি দায়ী করেছেন।

তাই দেখা যায়,  প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সরকারের এসব নানা পদক্ষেপের মধ্যেও প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অপতৎপরতা থেমে নেই। ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। দেখা গেছে, ‘PSC • JSC • SSC • HSC Exam Helping Center’ নামে ফেসবুকের পাবলিক গ্রুপকে প্রশ্ন কেনা-বেচার প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আশিকুর রহমান হৃদয় নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী গতকাল এক পোস্টে লেখেন, এইচএসসির প্রতিটি প্রশ্ন তিনি ৫০০ টাকায় পরীক্ষার আগে পাইয়ে দেবেন। আগ্রহীদের তিনি এক আলাদা গ্রুপে নেবেন। এ ছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের প্রশ্ন কমনের পর টাকা নেবেন— এমন কথা বলে প্রশ্ন ফাঁসের প্রচারণা চালাচ্ছেন রাকিব রায়হান।

এক্ষেত্রে কিছু সচেতন অভিভাবকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসে প্রচারণাকারীদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। অভিভাবকরা বলছেন, প্রশ্ন ফাঁস করে কেউ যদি পরীক্ষা দেয়, আর অন্যরা যদি প্রশ্ন ফাঁস ছাড়া পরীক্ষা দেয়— তবে তাদের মূল্যায়ন সমান হবে না। শিক্ষাবিদরা বলছেন, যে কোনো মূল্যে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে হবে। না হলে জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়বে।

কমেন্টস

কমেন্টস