প্রথম কাল বৈশাখী ঝড়ে নরে-চরে উঠলো দেশ!

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ 

লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় শিলাবৃষ্টিতে ঘর বাড়িসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই সময় বজ্রপাতে দুই জন মারা গেছেন। অপরদিকে ঝড়ে ঘর বাড়ি ও গাছ পালা উপড়ে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। বজ্রপাতে মারা যাওয়া শামিমের বাড়ি বদরগঞ্জ ও নয়া মিয়ার বাড়ি তারাগঞ্জ। তারা দুই জন ক্ষেতমজুর। শিলাবৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে ফসলের। ছোট ছোট আমের গুটি নষ্ট হয়ে গেছে।

শুক্রবার লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ে শিলা বৃষ্টিসহ প্রবল ঝড় বয়ে যায়। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ ও হাতীবান্ধা উপজেলায় শিলা বৃষ্টি এবং লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী ও পাটগ্রাম উপজেলায় হালকা শিলা বৃষ্টিসহ ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আকাশ কালো মেঘে ঢেকে থাকায় এবং থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের ফলে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে পুরো জেলা। সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে লালমনিরহাট কৃষি বিভাগ। লালমনিরহাটে শিলা পড়ে ঘরের টিন ফুটো হয়ে গেছে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ বলেন, কৃষি বিভাগ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। আকাশের অবস্থার উন্নতি ঘটলে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রাথমিকভাবে সবজি ক্ষেত, আম, লিচুর মুকুলসহ বিভিন্ন প্রকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবল শিলা বৃষ্টি আর ঝড়ে পাকা গম ও আমের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১১টায় আধ ঘণ্টার ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে মাটির খড়ের তৈরি কাঁচা বাড়িঘরেরও ক্ষয়ক্ষতির কথা জানা গেছে।

বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস গরম ও ধুলাবালি থেকে মানুষকে স্বস্তি এনে দিলেও কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে জেলার ৫টি উপজেলার তিন হাজার ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সড়কে গাছপালা ভেঙে পড়ে ও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ায় জনজীবন ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আফতাব আহমেদ বলেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করার কাজ করা হচ্ছে।

পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এ উপজেলার হাড়িভাসা, হাফিজাবাদ, কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার হাইব্রিড টমেটো ও তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝরে গেছে আম ও লিচু গাছের মুকুল। এছাড়া গম ও ভূট্টা ক্ষেতেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এই সময় প্রচুর পরিমাণে শিলাবৃষ্টি হয়।

পঞ্চগড়ে ঝরে পড়েছে আমজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের কৃষক নুরুজ্জামান জানান, তার টমেটো ও তরমুজ ক্ষেতের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামছুল হক শিলাবৃষ্টি ফল ও ফসলের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও ‘তাৎক্ষণিক ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেননি।

কমেন্টস

কমেন্টস