ধর্ষণের দায়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ 

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক তরুণীকে (২০) অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে তরুণী নিজে বাদী হয়ে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আমির হোসেনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুক্তভোগী তরুণী  আড়াইহাজার থানায় এই ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, উপজেলার মোল্লার চর গ্রামের মামার বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় দুই বছর আগে একই এলাকার মৃত তমিজউদ্দিনের ছেলে রবিউল আউয়ালের সাথে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। এর মধ্যে তরুণীকে বিয়ের প্রস্থাব দেয় রবিউল। তরুণীর পরিবার বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে ববিউল তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। গত রমজান মাসে ওই তরুণী মামার বাড়িতে বেড়াতে আসলে গত ২৬ মে সন্ধায় বাড়ির উঠান থেকে রবিউল আউয়াল, মাধবদী থানার মেহেরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আমির হোসেন, শাহজালাল ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে। পরে মাধবদী এলাকায় একটি বাড়িতে তাকে চারদিন আটকে রেখে রবিউল আউয়াল একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

ধর্ষণের পর রবিউল আউয়াল ও তার সহযোগিরা মিলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ওই বাড়িতে ফেলে চলে যায়। তরুণী ওই স্থান থেকে মামার বাড়িতে এসে বিষয়টি তাদের অবগত করলে মামার পরিবার রবিউলের পরিবারের লোকজনকে জানায়। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু মিমাংসার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এমনকি মামলা না করার জন্য মামার বাড়িতে ওই তরুণীকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এক পর্যায়ে রবিউল ওই এলাকার ক্ষমতাসীন লোকদের সহযোগিতায় তরুণী ও মামার পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য বলেন এবং তরুণীকে চট্টগ্রামের তার গ্রামের বাড়িতে চলে যাওয়া জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। ওই তরুণী কৌশলে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে মোল্লারচর এলাকা থেকে বেড়িয়ে পড়ে এবং বৃহস্পতিবার বিকেলে আড়াইহাজার থানায় একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল হক বলেন, ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

কমেন্টস

কমেন্টস