চেকপোস্টে পুলিশকে গুলি করে পালালো দুই খুনি

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

চেকপোস্টে তল্লাশির মুখে পড়তেই ফরহাদ আলীর ঘাতকরা পুলিশকেও গুলি করে। এ সময় গুলি থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পালাতে থাকে। এরই মধ্যে দুই ঘাতক বীরদর্পে অস্ত্র উচিয়ে পালিয়ে যায়। গত শুক্রবার দুপুরে বাড্ডায় মসজিদের সামনে আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ আলীকে গুলি করে হত্যার পর ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার এই দৃশ্য সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। গুলশান-১ নম্বরে গুদারাঘাট পুলিশ চেকপোষ্টের পাশে একটি ভবনের সিসি ক্যামেরায় এ দৃশ্য ধরা পড়েছে। এর আগে বাড্ডার আলীর মোড়ে বায়তুস সামাদ জামে মসজিদের পাশে একটি বাড়ির সিসি ক্যামেরায় দুই ঘাতককে অস্ত্র হাতে নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।

গুলশান-১ নম্বরে একটি ভবনের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৫ জুন দুপুর ১ টা ৫৩ মিনিটে পুলিশ চেকপোস্টে একটি অটোরিকশাকে তল্লাশি করার জন্য থামানোর নির্দেশ দেয়া হয়। অটোরিকশাটি চেকপোস্টে থামানোর পর প্রথমে লাল গেঞ্জি পরিহিত এক যুবক নেমে আসে। তার সঙ্গে সঙ্গে ভেতর থেকে সাদা রঙের গেঞ্জি পরিহিত আরেক যুবক নামে। প্রথমে নেমে আসা যুবকটিকে পুলিশ কোন তল্লাশি করেনি। ওই যুবক পুলিশের ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। এক পর্যায়ে যুবকটি মোবাইল ফোন দেখতে দেখতে ফুটপাতে উঠে হাঁটতে থাকে। পুলিশের ছাতার নিচে রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন একজন এপিবিএন সদস্য। সাদা গেঞ্জি পরিহিত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন ডিএমপির গুলশান থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর। এক পর্যায়ে ওই সাব-ইন্সপেক্টর অটোরিকশায় উঠে ভেতরে তল্লাশি করেন। এর মধ্যে ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে থাকা এপিবিএন সদস্য দেখতে পান যে লাল গেঞ্জি পরিহিত যুবক চলে যাচ্ছেন। তাকে তিনি ডাকতে থাকেন। তখন লাল গেঞ্জি পরিহিত যুবকটি এগিয়ে এসে পকেট থেকে সিলভার রঙের একটি পিস্তল বের করে পুলিশের দিকে তাক করে। এপিবিএন সদস্য তার রাইফেল তাক করার মূহুর্তে ওই যুবক গুলি করতে থাকে। তখন এপিবিএন সদস্য পুলিশের টিনের ব্যারিকেডের আড়ালে বসে আত্মরক্ষা করেন। পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ফুটপাতে উঠে উল্টোদিকে দৌঁড়াতে থাকেন। সিএনজি অটোরিকশার পিছনে আরেকজন এপিবিএন সদস্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনিও রাইফেল হাতে নিয়ে উল্টো দিকে দৌড়ে আত্মরক্ষা করেন। এরই মধ্যে সাদা রঙের গেঞ্জি পরিহিত যুবক ও গুলি করতে থাকা যুবক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, দুই ঘাতকের একজন জুয়েল, অপরজনের নাম মিরাজুল। জুয়েলকে হাতে পিস্তল নিয়ে দৌড়াতে দেখা যাচ্ছে। তবে দুজনের একেক সময় একেক নাম পাচ্ছে পুলিশ। তাই এখনও তাদের সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই চলছে। ওই দুই ঘাতককে গ্রেফতারে মাঠে নেমেছে পুলিশের একাধিক ইউনিট।

মামলা ডিবিতে স্থানান্তর : বাড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আলীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল আহাদ। গত মঙ্গলবার বিকালে নিহতের স্ত্রী মুর্শিদা বেগমের দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় ৪ আসামির কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

সুত্রঃ ইত্তেফাক

কমেন্টস

কমেন্টস