শিশু সায়ানের অপহরণকারী চক্র গ্রেফতার

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্ক ঃ

১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে অপহৃত শিশু মো. মিজানুর রহমান সায়ানকে (১১) উদ্ধার করতে হয়েছিল তার পরিবারকে। তবে ঘটনার ২০ দিন পর সেই অপহরণকারীচক্রকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। সেইসঙ্গে তারা উদ্ধার হয়েছে মুক্তিপণের ১৪ লাখ টাকা।

আজ মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) কাওরানবাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় জানানো হয়, অপহরণকারীচক্রের চার সদস্যের সবাই বয়সে তরুণ। এই চক্রের মূল হোতা মো. নাদিম (১৯)। সে একসময় সায়ানের চাচার অফিসে চাকরি করত। সেই সূত্রে সায়ানদের পরিবারের সব তথ্যই তার জানা। মোবাই  ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নাদিমকে গ্রেফতারের পর তার সহযোগীদের গ্রেফতার করে র‍্যাব। এরমধ্যে মো. আসিফের (১৯) বাসা থেকে ১৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা এবং মুক্তিপণের টাকায় কেনা দুটি দামি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।

 

র‍্যাব জানায়, সায়ান পরিবারের সঙ্গে বর্ধিত পল্লবী, রূপনগরের বাসায় থাকত। সে স্থানীয় এমডিসি মডেল ইনস্টিটিউটের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্যান্য দিনের মতো গত ২৭ মার্চ বিকাল ৪টার দিকে সে বাইসাইকেল নিয়ে বের হয়। সাধারণত সে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে এলেও ওই দিন আর ফিরে আসেনি। খোঁজ-খবর করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সায়ানের বাবার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি ফোন করে জানায়, সায়ানকে অপহরণ করা হয়েছে। সায়ানের মুক্তির জন্য ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে সে। টাকা না দিলে সায়ানকে হত্যার করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

ওই রাতে অপহৃত সায়ানের চাচা মো. হাবিবুর রহমান রূপনগর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে র‍্যাব ৪-এর কাছে লিখিত অভিযোগও দেন। এরমধ্যে র‍্যাব ও পুলিশকে না জানিয়ে সায়ানের পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ১৯ লাখ টাকার বিনিময়ে তারা সায়ানকে মুক্ত করে নিয়ে আসেন। তবে র‍্যাব তদন্ত অব্যাহত রাখে। শেষ পর্যন্ত মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণকারীচক্রটিকে শনাক্ত করা হয়। রবিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মিরপুর ১১ নম্বর থেকে ওই চক্রের চারজনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

কমেন্টস

কমেন্টস