হলমার্কের শর্তভঙ্গ; ৬ বছরে দিয়েছে ৫৬৭ কোটি টাকা

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

প্রতিমাসে ১০০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধের শর্তে সোনালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের মামলায় ২০১৩ সালের আগস্টে জামিন পান হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম। সে হিসেবে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত জামিনের পর তিনি সময় পেয়েছেন ৫৫ মাস (প্রায় ছয় বছর)। ১০০ কোটি টাকা প্রতি মাসে পরিশোধ করলেও হিসাব মতে আদায় হতো পাঁচ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৫৬৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

হলমার্কের অর্থ উদ্ধারের উগ্রগতির নিয়ে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সোনালী ব্যাংক।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- হলমার্ক গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানিকে বিভিন্ন সময় ঋণ দেয়া হয় তিন হাজার ৯৮৮ কেটি টাকা। এর মধ্যে কিছু অর্থ ফেরত আসলেও তিন হাজার ৪৪৮ কোটি ২০ লাখ টাকা আটকে যায়। আটকে যাওয়া এ অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করছে সোনালী ব্যাংক। এসব ঋণ আদায়ে অর্থ ঋণ আদালত ও সাধারণ আদালতে মামলা হয়েছে। এসব পদ্ধতি অবলম্বন করে এখন পর্যন্ত আদায় হয়েছে ৫৬৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) বেশ কয়েকটি মামলা করেছে। তবে আর্থিক খাত বিশেজ্ঞরা বলছেন, এসব টাকা হলমার্ক গ্রুপের কোম্পানি থেকে আদায় করা হয়েছে। এখন বাকি টাকা গ্রুপের সম্পদ বিক্রি করে আদায় করতে হবে।

২০১২ সালে হলমার্কের ঋণ জালিয়াতির খবর প্রথম প্রকাশিত হয়। আলোচিত এ কেলেঙ্কারির হোতা হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ হলেও এর সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর রমনা থানায় মামলা করে দুদক।

মামলায় হলমার্কের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের আগস্টে প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে জেসমিন ইসলামকে জামিন দেন আদালত।

এরপর তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর ১১ মামলায় চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদ, তার ভায়রা তুষার আহমেদসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়া হয়।

কমেন্টস

কমেন্টস