পুলিশের উপস্থিতিতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে খুন ১

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ 

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবু সাঈদ ভূঁইয়া (৬০) নামে এক মুদি দোকানি খুন হয়েছেন।

আজ শনিবার সকালে যাদবপুর উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় উভয়পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহতসহ প্রতিপক্ষের হামলায় এলাকার অন্তত ৪০টি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নড়াইলের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মেহেদী হাসান। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ফলে আবু সাঈদ ভূঁইয়া মারা গেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত ব্যাক্তিরা হলেন রাজ্জাক ভূইয়া (৩০), হাবি ভূইয়া (৪৫), আহাদ ভূইয়া (১৭), জিয়া ভূইয়া (৩০), মামুন গাজী (২৫) সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের অধিকাংশকেই খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে যাদবপুর খেয়াঘাটে নিজের মুদি দোকানে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ওই গ্রামের মৃত মুজিবর ভূঁইয়ার ছেলে আবু সাঈদ ভূঁইয়া। বাড়ি থেকে কিছু পথ যাবার পরে প্রতিপক্ষের লোকেরা দেশি অস্ত্র নিয়ে তাকে ধাওয়া করলে নিজ বাড়ির উঠানে এসে পড়ে যান সাঈদ। পরে তাকে গাছি দা দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তারা জানায়, নিহত আবু সাঈদের লাশ উঠানে রেখেই কিবরিয়া গাজীর লোকেরা প্রতিপক্ষ হেমা মুন্সির সমর্থকদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটে লিপ্ত হয়।

ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত মিলন মুন্সির স্ত্রী আমেনা বেগম জানান, ৪০/৫০ জন লোক দেশি অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার বাড়ির ফ্রিজ, টিভি সহ যাবতীয় মালামাল ভাঙচুর করে গোয়াল থেকে গরু-ছাগল নিয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

তবে পুলিশের উপস্থিতিতে ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শমসের আলী বলেন, হত্যার পরে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় দু’একটি বাড়িঘর ভাঙার ঘটনা ঘটতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ওই দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছিলো। উভয় পক্ষের একাধিক মামলাও আছে।

কমেন্টস

কমেন্টস