রমজানে ঊর্ধ্বমুখী কাঁচাবাজার

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ 

রমজানের শুরুতেই রাজধানীর কাঁচাবাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। গরু আর খাসির মাংস ছাড়া সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না অন্য কোনো পণ্য। তবে টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে ৫০ টাকার বেগুন ৯০ টাকা, শসা ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেলেও শুক্রবারে দেখা যায় ভিন্নচিত্র। বৃষ্টির কারণে শশা, গাজর, কাঁচামরিচ ও বেগুনের দাম গতকালের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে রমজানের শুরুতেই বাজারদরের ছন্দপতন দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। বাজারে সব সবজিই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি মিলছেই না।

রাজধানীর বাজারে একমাত্র গরু আর খাসির মাংস ছাড়া আর কোনো পণ্যই সরকারের বেধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না। রমজানের অজুহাতে ব্রয়লার বা দেশি মুরগি দুটোর দামই চড়া। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমলেও মানছেন না বিক্রেতারা। সবজির বাজারেও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর পাইকারি কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন মানবেধে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, প্রতি কেজি শসা মানবেধে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। অন্যদিকে কাঁচামরিচ প্রতিকেজি ৪০-৫০ টাকা, লেবু প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। তবে রাজধানীর অন্যান্য বাজারে আরও বেশি দামে এসব পণ্য বিক্রি হতে দেখা যায়।

কারওয়ান বাজারের কাঁচা তরকারির আড়ৎদার সামসুল ইসলাম আরটিভি অনলাইন বলেন, রমজানের আগেরদিন বৃহস্পতিবার বাজারে হঠাৎ করে বেগুন ও শসার আমদানি কমে যায়। এতে বেড়ে যায় শসা ও বেগুনের দাম। কিন্তু বৃষ্টির কারণে রমজানের প্রথমদিনেই দাম কমে যায়। আগামী কয়েকদিন পর দাম আরও পড়ে যাবে। কারণ শসা ও বেগুন স্বল্পসময়ে নষ্ট হয়ে যায়। এবার এ দুই ফসলের ফলনও ভাল হয়েছে। তাই সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় এসব পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে খুচরা দোকানদারগুলো পণ্যের দাম বাড়িয়ে রাখতে এসব পণ্য আড়ত থেকে নিচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, আড়ৎদাররা পণ্যের দাম তেমন বাড়ান না। বাড়িয়ে তোলেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। বাজার মনিটরিং করলে ভোক্তাদের পাশাপাশি আমরাও খুশি। কারণ নইলে দাম বাড়ার দায়টা শুধু আমাদের নিতে হবে।

রমজানের প্রথমদিন সকালেই রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে দেখা যায় ক্রেতাদের আনাগোনা। যারা বেগুন, শশা, লেবু, কাঁচামরিচ ও ধনেপাতাসহ ইফতার সামগ্রী তৈরিতে দরকারি সবজি কিনেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একাধিক ভোক্তা আরটিভি অনলাইনকে অভিযোগ করে বলেন, বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে এসব পণ্যের দাম প্রতিবছর বাড়িয়ে তোলা হয়। ইফতার অনুষঙ্গ হওয়ায় বাড়তি আয়ের আসায় সিন্ডিকেট করে প্রতি কেজি পণ্যের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে তোলা হয়। এ সুযোগে খুচরা বিক্রেতারা বাজার বেধে ইচ্ছেমতো এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে তোলে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৪০-৫০ টাকায় চিচিঙ্গা, কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়, পটল ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ও ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা। টমেটো ও করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা। লালশাক, সবুজ ডাটা শাক, পাটশাক, কলমি শাক বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকা আঁটি, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫-১০ টাকা। আর ২০-২৫ টাকায় আঁটি বিক্রি হওয়া পুঁইশাক ও লাউ শাক বেড়ে হয়েছে ৩০-৩৫ টাকা।

দেশি পেঁয়াজ আগের সপ্তাহের মতো ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে।

কারওয়ান বাজারের মুরগির দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকায়, লেয়ার মুরগি ২০০ টাকায় এবং পাকিস্তানি কর্ক মুরগি ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা করে। খাসি ও ছাগলের মাংসও একই হারে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৬৫০ ও ৭২০ টাকা করে। আরটিভি অনলাইন

কমেন্টস

কমেন্টস