বাবরের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন আজিজ : আইনজীবী

ডেইলি মিরর ২৪ ডেস্কঃ

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে জড়িয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সাবেক মহাপরিচালক আবদুল আজিজ সরকার যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট বলে ট্রাইব্যুনালে যুক্তি উপস্থাপনে দাবি করেছেন আইনজীবী।

আজ মঙ্গলবার বিএনপির এই নেতার পক্ষে আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপনে এ দাবি করেন। পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের এ মামলার অস্থায়ী ট্রাইব্যুনালে এ যুক্তি উপস্থাপন অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আজি আসামি বাবরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপনের পর তা অসমাপ্ত অবস্থায় শেষ হওয়ায় আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ আগস্ট পরবর্তী যুক্তি উপস্থাপনের দিন ঠিক করেন।

লুৎফুজ্জামান বাবরকে জড়িয়ে মামলার সাক্ষী আবদুল আজিজ সরকার ও পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রেজাউল হাসানের দেওয়া সাক্ষ্য মিথ্যা ও বানোয়াট মর্মে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী নজরুল ইসলাম।

এই আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপনে বলেন, আবদুল আজিজ সরকার ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, মুফতি হান্নানকে গ্রেপ্তারের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে জানালে তিনি তাতে খুশি না হয়ে বিরক্ত হয়েছিলেন। একথা সত্য নয়। কারণ তিনি (বাবর) তার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মুফতি হান্নানকে ধরতে এক কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। মুফতি হান্নান গ্রেপ্তারে পর এক কোটি টাকা পুরস্কারও প্রদান করেন। যদি বিরক্তই হবেন তবে পুরস্কারের টাকা দিতেন না। এ ছাড়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা সংক্রান্তে কোনো পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করার বক্তব্য সত্য নয়। পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় বাবরকে জড়ানোর জন্য তদন্ত কর্মকর্তা এ সাক্ষীদের সৃষ্টি করেছেন।

আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনকালে ট্রাইব্যুনালে মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলী সৈয়দ রেজাউর রহমান, মোশারফ হোসেন কাজল, আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়া, আকরাম উদ্দিন শ্যামল ও ফারহানা রেজাউসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মামলাটিতে এ আসামির পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হবে। এরপরই ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন ঠিক করবেন।

রাষ্ট্রপক্ষ মামলাটিতে ২৫ কার্যদিবস যুক্তি উপস্থাপনের পর গত ১ জানুয়ারি তা শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ১১ সরকারি কর্মকর্তার ৭ বছর কারাদণ্ড দাবি করেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় সন্ত্রাসীরা ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালায়। হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নির্মমভাবে নিহত হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন শতাধিত নেতাকর্মী।

ওই ঘটনায় মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি এজাহার দায়ের করেন।

 

কমেন্টস

কমেন্টস