পাট থেকেই তৈরি সবুজ চা!

ডেইলি  মিরর ২৪ ডেস্কঃ

পাট এবং চা দুটোই বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। বাংলাদেশের ঐতিহ্যের একটি বিশাল অংশ বিস্তার করে আছে পাট। বর্তমানে পাটকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে নতুন সম্ভাবনা জাগাতে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা হাতে নিয়েছে অনেক উদ্যোগ। এর অংশ হিসেবে এই পাট পাতা থেকেই এবার বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট তৈরি করেছে ‘মিরাকল অর্গানিক গ্রিন টি’’।  সেই সাথে পরিবেশ সচতন বিজ্ঞানীগনও পাটের বহুমুখী পণ্য উদ্ভাবনের অংশ হিসেবে পাটের আঁশ  থেকে পলিথিন তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছ যা ‘সোনালী ব্যাগ’ নামে পরিচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড: নাসিমুল গনি বলেন, ৯৩/৯৪ সালের দিকে তারা এটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছিলেন। তারপর দীর্ঘ দিনের পরীক্ষা নিরীক্ষা ও পর্যালোচনার পর ২০১৬ সালে বাংলাদেশে পাট পাতা থেকে এই অর্গ্যানিক চা বা পানীয় উৎপাদনে সাফল্য লাভের প্রথম দাবি করে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউট। তারপর ঢাকায় গুয়ার্ছি অ্যাকুয়া অ্যাগ্রো টেক নামের একটি প্রতিষ্ঠান পাটের পাতা দিয়ে তৈরি অর্গ্যানিক চা দেশের বাইরে রপ্তানির উদ্যোগ শুরু করে। এরইমধ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে গেছে। আর এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ইসমাইল হোসেন খানকে করা হয়েছে সরকারে নতুন পাট পাতা থেকে চা তৈরি প্রকল্পের উপদেষ্টা।

ইসমাইল হোসেন খান বলেন, ‘পাটের পাতা থেকে পানীয় (সবুজ চা) উৎপাদনের এই উদ্যোগ সরিষাবাড়ী থেকে শুরু হলো। এখানকার চা শুধু বাংলাদেশেই নয়, দেশের বাইরেও রপ্তানি হবে।

পাটের পাতা থেকে চা বানানোর প্রক্রিয়ার

পাটের পাতা থেকে চা বানানোর প্রক্রিয়ার বিবরণ দিয়ে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড: নাসিমুল গনি বলেন, ‘ফুল আসার আগেই পাট গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করতে হবে। পরে সে পাতা সূর্যের আলোতে শুকোতে সাইজ মতো গুঁড়ো করে নিতে হবে। এরপর মধু বা চিনি দিয়ে এ চা পান করা যাবে। আবার এগুলো ছাড়াও পান করা যাবে।’

পাট গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক মাইনুল হক  জানান তোষা পাটের পাতা থেকে তৈরি করা চা সুস্বাদু হবে কিন্তু দুধ মিশিয়ে এ চা খাওয়া যাবেনা।

পাটের চায়ের গুণাগুণ

পাটের চা  ডায়াবেটিস, ক্যান্সার, হৃদরোগ, রক্তচাপ, কোলেস্টরল, লিভার সুরক্ষা ও জীবাণু সংক্রমণ রোধে বেশ কার্যকরী। এ চা ডায়বেটিক রোগীর রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে ও রোগীর বার্ধক্যজনিত অন্ধত্ব ও অন্য সব জটিল রোগের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। পাটের চায়ে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, যা মানবদেহের দুর্বল কোষে ফ্রি রেডিক্যালের ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে দেয়া না। এতে ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমে যায়। এছাড়া রাসায়নিক বিষক্রিয়ার কারণে লিভার ড্যামেজ ও এবং জন্ডিস প্রতিরোধে সক্ষম এই চা। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধ করতে বয়োবৃদ্ধদের সাহায্য করে।

এছাড়া সৌন্দর্য ও প্রসাধন চর্চায় যার নাম গোটা দুনিয়ায়, লোককথায় প্রচলিত সেই রানী ক্লিওপেট্রা তার যৌবন ধরে রাখতে নিয়মিত পাট পাতার স্যুপ সেবন করতেন।  আলসার ও ত্বকের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতেও কার্যকর পাটের চা।

পাটের চা এর বিশ্ব চাহিদা

এ চায়ে ভেষজ গুণ থাকায় বিদেশে চাহিদা আছে। এর মধ্যেই ২০০ কেজি পাটের চা জার্মানিতে রফতানি করা হয়েছে। আরও ৩০০০ কেজি রফতানির আদেশ পাওয়া গেছে।

পাটের পলিথিন

প্লাস্টিকের পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটের পলিথিন ‘সোনালি ব্যাগ’ ব্যাগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন(বিজেএমসি)।  পাটের সেলুলোজ থেকে তৈরি ব্যাগটি সম্পূর্ণ পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব। এ পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করার পর ফেলে দিলে ৫ ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে। ৫-৬ মাসের মধ্যে মাটিতে মিশে যায়। প্লাস্টিকের পলিথিনের চেয়ে অধিক কার্যকর এ ব্যাগে দেড়গুণ ভারি দ্রব্য বহন করা যাবে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পাটের তৈরি পলিথিন ‘সোনালি ব্যাগ’ শিগগির বাণিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়া হবে।

কমেন্টস

কমেন্টস